খাবার সহয়তা চেয়ে ৩৩৩ নম্বরে ফোন করেছিলেন বগুড়ার শিবগঞ্জের এক যুবক। খবর পেয়ে আজ সোমবার শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলমগীর কবীর নিজেই খাবার নিয়ে ছুটে যান তার বাড়িতে। কিন্তু গিয়ে হতভম্ব হয়ে পড়েন তিনি। ওই রীতিমতো স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান। ছেলের কাণ্ড দেখে বাবাও বিব্রতবোধ করছেন। তিনি ইউএনও কাছে ছেলের হয়ে দুঃখ প্রকাশও করেছেন।
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাতে জাতীয় সেবা ৩৩৩ নম্বরে কল করেন বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলার শংকরপুর গ্রামের ৩৫ বছর বয়সী এক যুবক। তিনি ফোনে জানান, ঘরে অবস্থান করছেন, খাবার নেই। এখন পর্যন্ত কেউ সহযোগিতাও করেনি। বাড়ির ঠিকানাও দিয়ে দেন তিনি। এই তথ্য জানার পর মোতাবেক জরুরি ভিত্তিতে সোমবার সকাল ১১টায় ত্রাণ নিয়ে ওই যুবকের বাড়িতে হাজির হন ইউএনও মো. আলমগীর কবীর। সেখানে গিয়ে দেখতে পান যুবকটির পরিবার স্বচ্ছল। তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী এবং তার এক ভাই আয়কর বিভাগে চাকরি করেন। একান্নবর্তী পরিবার।
ইউএনওকে খাবার নিয়ে বাড়িতে আসতে দেখে বাবাও অবাক হয়ে যান। ছেলের এমন কাণ্ডে বিব্রতবোধ করেন তিনি। ছেলের কৃতকর্মের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে। এ সময় মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সনাতন চন্দ্র সরকার, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোকলেসার রহমান উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও মো. আলমগীর কবীর বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবাইকে ঘরে অবস্থান করতে বলা হচ্ছে। এতে কর্মহীন মানুষ বিপদে পড়েছেন। এ কারণে সরকারের পক্ষ থেকে বাড়িতে গিয়ে খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। তাই স্বচ্ছল ব্যক্তিদের এভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন না দিতে এবং স্বচ্ছল হয়েও অস্বচ্ছল পরিবারের ত্রাণ গ্রহণ না করতে তিনি সবার প্রতি অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, এই ঘটনার জন্য ওই যুবকের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।










