করোনা অতিমারীর মাঝেও দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ বাড়ছে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ২৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা রাজস্ব আহরণ করা হয়েছে।  হিলি স্থল শুল্ক স্টেশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এ বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। বিপরীতে আদায় হয়েছে ৬০ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার অধিক রাজস্ব আহরণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দর থেকে মোট ২৮৭ কোটি ৫ লাখ টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর মধ্যে অর্থবছরের প্রথম জুলাইয়ে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১০ কোটি ৫ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আহরণ করা হয়েছে ৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। আগস্টে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। বিপরীতে আহরণ হয়েছে ২৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আগের তুলনায় আমদানি-রফতানি বেড়েছে। বন্দর দিয়ে প্রচুর পরিমাণে পাথর, গম, ভুট্টা, পেঁয়াজ, ভুসি, চিটাগুড়সহ বিভিন্ন পণ্য নিয়মিতভাবে আমদানি হচ্ছে। এছাড়া বন্দর দিয়ে সম্প্রতি চাল আমদানি শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে বন্দরের সার্বিক বাণিজ্যে গতি এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বন্দরের রাজস্ব আহরণের ওপর। এছাড়া দেশে করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ায় আগামীতে এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি আরো বাড়বে। যে কারণে আগামী মাসগুলোয় রাজস্ব আহরণের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

গত অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দর থেকে লক্ষ্যমাত্রার অধিক রাজস্ব আহরণ সম্ভব হয়েছিল। চলতি অর্থবছরেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে মনে করছেন হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা এসএম নুরুল আলম খান। তিনি বলেন, কাস্টমসের সেবা বাড়ানো, বন্দর দিয়ে আমদানীকৃত পণ্যের দ্রুত পরীক্ষণ-শুল্কায়ন কার্যক্রম সম্পূর্ণ করা হচ্ছে। এ কারণে বন্দর দিয়ে একই দিনে পণ্য আমদানি করে দিনেই খালাস নিতে পারছেন আমদানিকারকরা। এতে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে সময় যেমন কম লাগছে, তেমনি সহজেই আমদানীকৃত পণ্যগুলো বাজারজাত করতে পারছেন ব্যবসায়ীরা; যার কারণে এ বন্দর দিয়ে আমদানি বাড়াচ্ছেন তারা।