সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ ইস্যুতে ভারতের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশীদের প্রোপার চ্যানেলের মাধ্যমে ফেরত পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে। বাংলাদেশী নাগরিক হলে নিয়ম মেনে তাদের গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। তার পরও পুশ-ইন অব্যাহত রেখেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। বিজিবির তথ্য বলছে, ৭ মে থেকে এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষকে পুশ-ইন করেছে ভারত। যাদের মধ্যে বাংলাদেশীর পাশাপাশি রোহিঙ্গা ও ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন। গত সোমবার রাতে আরো ৫৬ জনকে পুশ-ইন করেছে বিএসএফ। এর মধ্যে পঞ্চগড় সীমান্ত দিয়ে ২৬ জন, ময়মনসিংহে ২২ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে আটজনকে ঠেলে দেয়া হয়।
বিজিবি বলছে, পঞ্চগড় সদর উপজেলার শিংরোড ও ঘাগড়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ২৬ জনকে ঠেলে দেয় বিএসএফ। পরে তাদের বিজিবি আটক করে। গতকাল দুপুরে তাদের পঞ্চগড় সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, নয়জন নারী ও ১০টি শিশু রয়েছে। তাদের বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ী উপজেলায়।
পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ-হিল জামান জানান, তারা প্রকৃত বাংলাদেশী কিনা সেটা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর আত্মীয়-স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আপাতত তাদের নিরাপত্তার জন্য শেল্টার হোমে রাখা হবে।
এদিকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলার সীমান্ত দিয়ে ২২ জনকে পুশ-ইন করেছে বিএসএফ। সোমবার রাত ২-৩টার মধ্যে তাদের পুশ-ইন করা হয়। এদের মধ্যে ১২ জন নারী, আটজন পুরুষ ও দুটি শিশু রয়েছে।
বিজিবি জানায়, ধোবাউড়ার মুন্সিপাড়া এলাকার সীমান্ত দিয়ে এক শিশু ও তিন নারীসহ ১২ জনকে পুশ-ইন করা হয়। এছাড়া হালুয়াঘাট উপজেলার সূর্যপুর সীমান্ত দিয়ে এক শিশু ও নয় নারীকে পুশ-ইন করা হয়।
পুশ-ইন করা ব্যক্তিদের দাবি, ২৪ মে গুজরাট থেকে সেখানকার পুলিশ তাদের আটক করে। এরপর বিভিন্ন সময় তাদের মারধর করা হয়। এমনকি তাদের কাছ থেকে মোবাইল, আইডি কার্ড, আধার কার্ডসহ যাবতীয় কাগজপত্র ও মালামাল রেখে দেয়। তাদের বাড়ি নড়াইল, সিরাজগঞ্জ ও খুলনা জেলায়। ২০০৪ সালে দালালের মাধ্যমে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে যান তারা। গুজরাটে তারা বিভিন্ন দোকানে কাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্য করেন। এক পর্যায়ে ভারতীয় নাগরিকত্ব পান। তবে হুট করেই অভিযান চালিয়ে বস্তি ও বিভিন্ন দোকান থেকে তাদের আটক করে গুজরাট পুলিশ। কিছুদিন আটকে রেখে সোমবার রাতে মুন্সিপাড়া সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পুশ-ইন করে। পরে বিজিবি তাদের আটক করে।
বিজিবির ময়মনসিংহ সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সরকার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় বিএসএফের কাছে প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়েছে। আটককৃতদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট সীমান্ত দিয়ে গতকাল ভোরে আটজনকে পুশ-ইন করা হয়েছে। তাদের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ, খুলনা, ঠাকুরগাঁও, রাজশাহী, নারায়ণগঞ্জ ও বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায়।
বিজিবি ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া জানান, ভোলাহাটের চাঁনশিকারি সীমান্ত দিয়ে চার নারী ও চার পুরুষকে পুশ-ইন করে বিএসএফ। সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে বিজিবি সদস্যরা তাদের আটক করেন। পরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।










