বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে বিদ্যুতায়িত হয়ে এক দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের পূর্ব জয়পুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃতরা হলেন ওই গ্রামের বীরেন মণ্ডল (৬০) ও তার স্ত্রী রীতা রানী মণ্ডল (৫৫)। এ দুর্ঘটনার জন্য পল্লী বিদ্যুতের গাফিলতিকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। তবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বলছে, বৃষ্টিতে সুপারি গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
মারা যাওয়া বীরেন মণ্ডল ও রীতা রানী মণ্ডল দম্পতির দুই ছেলে রয়েছে। এক ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং আরেক ছেলে বাগেরহাট রামকৃষ্ণ আশ্রমে থেকে পিসি কলেজে পড়াশোনা করেন। ঘটনার সময় ছেলেরা বাড়িতে ছিলেন না।
স্থানীয় অনিতা হালদার জানান, বীরেন মণ্ডলের ঘরের ওপর দিয়ে পল্লী বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন গেছে। সকালে গাছের ডাল পড়ে বিদ্যুতের তারে আগুন ধরে যায়। একপর্যায়ে একটি তার বীরেন মণ্ডলের ঘরের সামনে পড়ে। ওই তার সরাতে গিয়ে বীরেন মণ্ডল বিদ্যুতায়িত হন। তাকে বাঁচাতে স্ত্রী রীতা ঘরের মেইন সুইচ বন্ধ করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
অনিতা বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুতের গাফিলতিতেই দুটি প্রাণ ঝরে গেল। তারা যদি পাইপ দিয়ে বিদ্যুতের তার ঘরের ওপর থেকে নিত, তাহলে এমন মৃত্যু হতো না।’
নিহতের ছেলে চঞ্চল মণ্ডল বলেন, ‘আগুন ধরে একটা তার ছিঁড়ে নিচে পড়ে গেছে। তার পরও ট্রান্সফরমার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়নি। আমার মা-বাবা পল্লী বিদ্যুতের গাফিলতিতেই মারা গেছে।’
বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সুশান্ত রায় বলেন, ‘সঞ্চালন লাইনের খুব কাছেই বীরেন মণ্ডলের একটি সুপারি গাছ ছিল। গাছটি তারের ওপর পড়ার ঝুঁকিতে ছিল, যার কারণে আমাদের কর্মীরা ওই গাছটি কেটে ফেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বীরেন মণ্ডল ওই গাছ কাটতে না দিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে রাখেন। গতকাল সকালে বৃষ্টি ও বাতাসে রশি ছিঁড়ে সুপারি গাছটি তারের ওপর পড়ে। এতে তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে যায়। ওই তার ওঠাতে গিয়েই বীরেন মণ্ডল মারা যান। বীরেনকে বাঁচাতে গিয়ে তার স্ত্রী মারা যান।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ ঘটনায় চিতলমারী জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক শহিদুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে মূল ঘটনা জানা যাবে।’










