ফরিদপুর সেফ হোম থেকে সাত তরুণী পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি কর্তব্যরত দুই আনসার সদস্যের অবহেলা প্রমাণ পেয়েছে। এ ধরনের ঘটনা রোধে সমাজসেবা অধিদফতরের কাছে ১৪টি সুপারিশও করেছে তদন্ত কমিটি।
এদিকে এ ঘটনায় এরই মধ্যে অধিদপ্তরের চার কর্মচারী তথা একজন নার্স, একজন নাইটগার্ড, একজন গার্ড এবং একজন বাবুর্চিকে বদলি করা হয়েছে।
পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই রাতে সেফ হোমের অভ্যন্তরে সালমা বেগম (২৬) ও বিউটি আক্তার (২৭) নামের দুই আনসার সদস্য কর্মরত ছিলেন। কর্তব্যকালে প্রতি দুই ঘণ্টা পর নিবাসীদের কক্ষে গিয়ে নজরদারির কথা থাকলেও তারা তা করেননি। তাদের ঘুমিয়ে পড়ার সুযোগে সাত তরুণী পালিয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আনসার ও ভিডিপির কর্মকর্তার কাছে অনুরোধ করেছে তদন্ত কমিটি।
গত শনিবার (০৫ ডিসেম্বর) জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের উদ্যোগে সহকারী উপপরিচালক আবু সাইদুর রহমানকে কমিটির আহ্বায়ক করে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের উপপরিচালকের কাছে জমা দেয়া প্রতিবেদনে আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ১৪ দফা সুপারিশ করা হয়েছে।
সুপারিশের মধ্যে রয়েছে সীমানা প্রাচীর ১৮ ফুট উঁচু করা, নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষীর পদ সৃষ্টি, প্রতি দুই ঘণ্টা পর দায়িত্ব পালনের মতো জনবল সৃষ্টি, আনসার ও পুলিশ সদস্যদের সংখ্যা বৃদ্ধি, সেফ হোমের চারপাশে গার্ড হাউস স্থাপন, সীমানা প্রাচীরের বাইরে দিয়ে পুলিশের যাতায়াতের উপযোগী সড়ক নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর-সংলগ্ন ও আশপাশের গাছ কেটে ফেলা প্রভৃতি।
জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের উপপরিচালক এ এস এম আলী আহসান বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্টের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।









