জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের এনএসসি সিস্টেম জালিয়াতির মাধ্যমে সঞ্চয়পত্রের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলাটি করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক আবুল খায়ের মো. খালিদ।
মামলার আসামিরা হলেন, মোহাম্মদ মারুফ এলাহী রনি, রনির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ফরমে পরিচয় শনাক্তকারী মহিউদ্দিন আহমেদ, এনআরবিসি ব্যাংকের দিনাজপুর উপশাখার গ্রাহক মো. আরিফুর রহমান মিম এবং তার পরিচয় শনাক্তকারী আল আমিন। তাদের মধ্যে আরিফুর রহমানকে এরই মধ্যে মতিঝিল এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত সোমবার মহা হিসাব নিরীক্ষণ কার্যালয়ের হিসাব নিরীক্ষণ কর্মকর্তা মঞ্জুর আলম তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এস এম রেজভীর আয়কর রিটার্ন পূরণ করতে গিয়ে দেখেন তার নামে কেনা ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ১৩ অক্টোবর তুলে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সঞ্চয়পত্র তুলে নেয়ার কোনো আবেদন করেননি তিনি। পরে গ্রাহকের মুঠোফোন নম্বর, লেনদেনের সীমা পরিবর্তনসহ নানাভাবে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ২৩ অক্টোবর সঞ্চয়পত্রের ওই টাকা তুলে নেয়া হয়।
জানা গেছে, রেজভীর ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ভাঙিয়ে এনআরবিসি ব্যাংকের দিনাজপুরের রানীগঞ্জ উপশাখার মো. আরিফুর রহমান মিমের অ্যাকাউন্টে নেয়া হয়। সেখানে টাকা জমা হওয়ার পরই ঢাকার দুইটি শাখা থেকে তা তুলে নেয়া হয়। আরিফের লেনদেন সীমা ২ লাখ টাকা হলেও জালিয়াতির মাধ্যমে সেই সীমা ১০ লাখ টাকা করা হয়।
এ ছাড়া জালিয়াতির মাধ্যমে মোহাম্মদ মারুফ এলাহী রনির ডাচ–বাংলা ব্যাংকের কাওরানবাজার শাখার ব্যাংক হিসাবে আরো দুই ব্যক্তির সঞ্চয়পত্রের ৫০ লাখ টাকা নেয়া হয়। তবে অর্থ উত্তোলনের আগেই তা আটকে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
তদন্ত–সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আসামিদের মধ্যে মোহাম্মদ মারুফ এলাহী এ চক্রের হোতা। তিনি ছাত্রদলের বিগত কমিটির সহসভাপতি ছিলেন। তার আগের কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হল শাখার আহ্বায়ক ছিলেন।
তবে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন মারুফ এলাহী। তার দাবি, এ জালিয়াতির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ডাচ–বাংলা ব্যাংকে আমার হিসাবটি ছাত্র অবস্থায় ২০০৮ সালে খোলা। এই হিসাবে আমার লেনদেন সীমা ৫ লাখ টাকা। বর্তমান ব্যালেন্স আছে ৩৫ হাজার ৭০০ টাকার মতো। কে, কেন, কীভাবে ৫০ লাখ টাকা দেয়ার চেষ্টা করেছে আমি কিছুই জানি না। মঙ্গলবার প্রথম এটা শুনেছি। এরপর থেকে আমার হিসাব থেকে আর লেনদেন করতে পারছি না। রাজনৈতিকভাবে আমাকে ফাঁসানোর জন্য কেউ এরকম করেছে কিনা বুঝতে পারছি না।
মতিঝিল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন জানান, চার আসামির মধ্যে আরিফুর রহমানকে মতিঝিল এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পেশায় তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।









