দেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা দিনাজপুরের হিলিতে গত কয়েকদিন ধরেই শীত অব্যাহত রয়েছে। এর ওপর গত দুদিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। তবে রাতে ও সকালে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝড়ছে। সেই সঙ্গে হিমেল বাতাস শীতের মাত্রাকে বাড়িয়ে তুলেছে। তীব্র শীতে বিপাকে পড়েছেন জেলার নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ।

হিলিতে গত ১০/১৫ দিন ধরে শীত অব্যাহত রয়েছে। তবে শুরুর দিকে শীতের মাত্রা কিছুটা কম থাকলেও বর্তমানে তাপমাত্রা কমায় শীতের মাত্রা আরো বাড়ছে।

হিলিতে আজো দেখা মেলেনি সূর্যের। প্রায় সারাদিনই আকাশ কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে আছে। শীতের তীব্রতায় সড়কে মানুষের চলাচল কমে গেছে। এতে আয় কমায় বিপাকে পড়েছেন ভ্যান-রিক্সা চালকরা। আবার নিম্ন আয়ের মানুষজন কাজের সন্ধানে বাড়ির বাইরে গেলেও আক্রান্ত হচ্ছেন শীতজনিত নানা রোগে।

ভ্যান চালক খালেদ হোসেন বলেন, গত কয়েকদিনের তুলনায় দুদিন ধরে শীতের মাত্রা অনেকটা বেশি। যেমন কুয়াশা ঝড়ছে, তেমন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতের প্রকোপ। এমন কুয়াশা ঝড়ছে যে ৫ হাত দূরে কী আছে দেখা যাচ্ছে না। হিমেল বাতাসের কারণে ভ্যান চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। গায়ে দুই-তিনটা গরম কাপড় পরেও শীত কাটছে না। শীতের কারণে জ্বর-সর্দি-কাশি তো লেগেই আছে। তারপরেও পেটের তাগিদে বাড়ির বাহির হতে হয়েছে।

দিনমজুর সাইদুল ইসলাম বলেন, শীত হোক বা গরম, আমাদের কাজ না করলে সংসার চলবে না। তাই বাধ্য হয়ে ভোরবেলা কাজের সন্ধানে বাড়ি থেকে বের হয়ে হিলির উদ্দেশে এসেছি। কিন্তু যে কুয়াশা পড়েছে সামনে কিছু দেখা যাচ্ছে না। শীতে কষ্টটা আরো বেশি হয় যখন কাজ পাওয়া যায় না। গত কয়েকদিন ধরেই কাজ ঠিকমত মিলছে না।

দিনাজপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন জানান, আজ মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় দিনাজপুর অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৬টায় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৫ ভাগ, বাতাসের গড় গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১ কিলোমিটার।