সিঙ্গাপুরে নভেল করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) আক্রান্ত প্রবাসী বাংলাদেশীর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। দেশটিতে কভিড-১৯ শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে গতকাল। আক্রান্তদের বড় অংশই প্রবাসী, যার মধ্যে বাংলাদেশীই রয়েছেন ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি।
সিঙ্গাপুরের অবকাঠামো খাতে প্রচুর বিদেশী শ্রমিক কাজ করেন। দেশটির জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের ২০১৯ সালের জুনের এক হিসাবে দেখা গেছে, বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার ও চীন থেকে ৩ লাখ ৭০০ শ্রমিক দেশটির নির্মাণ শিল্পে নিয়োজিত। অভিবাসী এসব শ্রমিক গাদাগাদি করে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বসবাস করেন সেখানে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রীরও অভাব রয়েছে তাদের। ফলে অভিবাসীদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এ মারণ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব।
নভেল করোনাভাইরাসের কারণে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে দিন পার করছেন দেশটিতে অবস্থানরত প্রায় চার লাখ বাংলাদেশী শ্রমিক। সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক তৈরি হয়েছে সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত মোস্তফা সেন্টার ও আশপাশ এলাকায়। স্থানটি বাংলাদেশী প্রবাসীদের কাছে মোস্তফা প্লাজা নামেও পরিচিত। মোস্তফা সেন্টারের আশপাশের এলাকাগুলোর মধ্যে রবার্টস লেন, সৈয়দ আলাওয়ি রোড, রয়েল রোড, কেজি কাপুর রোড, সিরাংগংসহ কয়েকটি এলাকায় বাংলাদেশী প্রবাসীদের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি। তবে নভেল করোনাভাইরাস আতঙ্কে প্রবাসী বাংলাদেশীরা এখন ওইসব এলাকা এড়িয়ে চলছেন।
সিঙ্গাপুরে প্রবাসী বিভিন্ন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আয় কম হওয়ায় অভিবাসী শ্রমিকরা সাধারণত গাদাগাদি করে, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বিভিন্ন ডর্মে বসবাস করেন। একেকটি কক্ষে ১২ থেকে ২০ জনের বাস। একই রান্নাঘরে অনেকে মিলে রান্না করেন। আবার একই টয়লেট ও স্নানাগার কয়েকজনকে মিলে ব্যবহার করতে হয়। খাবারের মানও নিম্নমানের হওয়ায় তাদের পুষ্টিরও অভাব রয়েছে। এখন পর্যন্ত তাদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী সরবরাহ করা হয়নি। ফলে সেখানে যদি একবার সংক্রমণ শুরু হয়, তবে তা অন্য সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশের কুষ্টিয়া থেকে সিঙ্গাপুরে যাওয়া একজন প্রবাসীর সঙ্গে কথা হয় বণিক বার্তার। এই প্রবাসী নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, তারা যেখানে থাকেন সেখানে এখনো কেউ সংক্রমিত হয়নি। তবে যে পরিবেশে তারা বসবাস করেন তাতে করে একজন এ ভাইরাসের সংক্রমণের শিকার হলে অন্যরাও আক্রান্ত হয়ে পড়বেন।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ থেকে বহির্গমন ছাড়পত্র নিয়ে সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমিয়েছেন অনেক বাংলাদেশী। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ৪৯ হাজার ৮২৯ বাংলাদেশী বহির্গমন ছাড়পত্র নিয়ে সিঙ্গাপুর গিয়েছেন। এছাড়া ২০১৮ সালে ৪১ হাজার ৩৯৩ জন, ২০১৭ সালে ৪০ হাজার ৪০১, ২০১৬ সালে ৫৪ হাজার ৭৩০ ও ২০১৫ সালে ৫৫ হাজার ৫২৩ জন বাংলাদেশী শ্রমিক দেশটিতে পাড়ি জমান।









