সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে গত ৩ বছরে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ঘাটতি পড়েছে। বিগত ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে সদ্যবিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত এ বন্দরে ১ হাজার ১৭৬ কোটি টাকার ওপরে রাজস্ব ঘাটতি পড়েছে।

ঘাটতির কারণ হিসেবে বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক মহামারী, বন্দরের সক্ষমতা না বাড়ানো, পণ্য আমদানিতে বৈষম্য এবং ভোমরার বিপরীতে ঘোজাডাঙ্গায় সিরিয়ালের নামে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজি।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা থেকে জানা গেছে, বিগত ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে সদ্যবিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩ হাজার ২৬২ কোটি ৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ছিল ১ হাজার ১৮৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, ২০২০-২১ অর্থবছরে ১ হাজার ১২১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৯৫৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

সুত্রটি আরো জানায়, উল্লেখিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিগত ৩ বছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ হাজার ৮৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫৮৩ কোটি ৪ লাখ টাকা, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭৬০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা এবং সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে ৭৪১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। যা গত ৩ বছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ১৭৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ঘাটতি।

ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়শনের সভাপতি কাজী দিলওয়ার নওশাদ রাজু জানান, গত ৩ বছরে এত মোটা অংকের রাজস্ব ঘাটতি যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে এ বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের সবধরনের পণ্য আমদানি করতে না দেয়া। এছাড়া করোনা মহামারীর পাশাপাশি বন্দরের সক্ষমতা না বাড়ানোও রাজস্ব ঘাটতির কারণ। তিনি বলেন, পুর্ণাঙ্গ বন্দর হওয়া সত্বেও ভোমরা স্থলবন্দরে সবধরনের পণ্য আমদানির অনুমতি নেই। ভোমরার সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগ ব্যবস্থা এতো ভালো যে, ব্যবসায়ীদের যদি সকল ধরনের পণ্য আমদানি করতে দেয়া হয় তাহলে বাত্সরিক লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অনেকাংশে বাড়বে রাজস্ব। এছাড়া ঘোজাডাঙ্গা সিরিয়ালের একটি সংগঠন বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের নিকট বেপরোয়া ভাবে চাঁদা আদায় করছে। এতে ভোমরা বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ হারাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার আমীর মামুন জানান, বিগত ৩ বছরে যে পরিমাণ রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে তার অন্যতম কারন হচ্ছে বৈশ্বিক করোনা মহামারী। তিনি বলেন, গত ৩ বছরের প্রায় দুবছর করোনার জন্য ব্যবসা বাণিজ্য খুবই মন্দা গেছে। তাছাড়া বন্দরের সক্ষমতা না বাড়ানোও কারণ রয়েছে রাজস্ব কমের যাওয়ার।