ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মো. আনোয়ার হোসেন চারদিন ধরে অফিসে না যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন জনপ্রতিনিধিরা। ফলে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষকে সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসনের বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গতকাল কয়েকজন জনপ্রতিনিধি বরাদ্দকৃত চাল নিতে এসে না পেয়ে ফিরে গেছেন। তারা খাদ্যগুদাম থেকে সরকারি চাহিদাপত্র না পেয়ে ক্ষুব্ধ।

জানা যায়, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নলছিটি উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় হতদরিদ্রদের জন্য বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভায় খাদ্যসহায়তা হিসেবে চাল বরাদ্দ দেয় সরকার।  জনপ্রতিনিধিরা উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে চাল নিয়ে এলাকার কর্মহীন মানুষের মধ্যে বিতরণ করেন। তবে গুদাম কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন চারদিন ধরে অফিস করছেন না। তার স্বাক্ষর ছাড়া চাহিদাপত্র ও গুদাম থেকে চাল নেয়া সম্ভব হচ্ছে না জনপ্রতিনিধিদের। হতদরিদ্ররা খাদ্য সংকটে থাকলেও শুধু খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে তা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

খাদ্যগুদামে চাল নিতে আসা নলছিটির মোল্লারহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন অভিযোগ করেন, খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা কয়েক দিন ধরে অফিসে আসছেন না। তিনি চাল বরাদ্দের চাহিদাপত্র না দিলে আমরা বরাদ্দ নিতে পারি না। বর্তমানে আমরা বরাদ্দকৃত চাল নিতেও পারছি না, এলাকায় বিতরণও করতে পারছি না।

এ ব্যাপারে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদার বলেন, সরকারি চাহিদাপত্র ছাড়া জনপ্রতিনিধিদের হাতে পণ্য দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। এতে কাজের স্বচ্ছতা নষ্ট হয়। এমন সংকটময় অবস্থায় খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়টি আমার জানা নেই। একজন ইউপি চেয়ারম্যান সকালে বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। তার অনুপস্থিতির কারণ জেনে প্রয়াজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এ ব্যাপারে নলছিটি খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা মো. আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।