বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নে লাখো মানুষের সমাগমে হয়ে গেল ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা। মাছ ও মিষ্টির জন্য বিখ্যাত এ মেলা ঘিরে অর্ধশত গ্রামজুড়ে চলছে অতিথি আপ্যায়ন ও আনন্দ উৎসব। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই এবারো বসল ২০০ বছরের এ মেলা। এবারের মেলায় সবচেয়ে বড় মাছ ছিল ২৫ কেজি ওজনের কাতল আর ১২ কেজি ওজনের মাছ মিষ্টি। জানা যায়, সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষে প্রতি বছর মাঘ মাসের শেষ বুধবার বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মাহিষাবান ইউনিয়নের ইছামতী নদীর তীরে পোড়াদহ মেলা বসে।

প্রায় ২০০ বছরের অধিক সময় চলে আসা এ রীতি, এবারো ব্যতিক্রম হয়নি। শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষসহ সব বয়সী মানুষের ঢল নামে মেলায়। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে আসে মেয়ে ও মেয়ে জামাইসহ স্বজনরা। দিনব্যাপী এ মেলায় জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ আশপাশের জেলা থেকে প্রায় লাখো মানুষের সমাগম হয়। বিশাল আকৃতির মাছ, আর বড় বড় মিষ্টি কেনাবেচার মধ্য দিয়ে শেষ হয় দিনব্যাপী মেলা। প্রতি বছর বিশাল আকৃতির বাগাড় মাছ মেলায় থাকলেও বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পক্ষ থেকে মহাবিপন্ন এ মাছ প্রদর্শন ও বিক্রি বন্ধ করতে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেয়া হয়। ফলে মেলায় বাগাড় মাছ বেচাকেনা হয়নি। তবে ২৫ কেজি ওজনের কাতলা প্রতি কেজি ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। বড় বড় মিষ্টি এ মেলার অন্যতম আকর্ষণ। এবারো মাছ আকৃতির ১২ কেজি ওজনের মিষ্টি বিক্রি হয়েছে ৫০০ টাকা কেজি দরে। মেলায় ৩০০ মাছের দোকান, মিষ্টির দুই শতাধিক দোকান, কাঠের ফার্নিচার শতাধিক, খেলনা সামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের সহস্রাধিক দোকান বসে।

বগুড়ার গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওনক জাহান জানান, করোনা সংক্রমণের কারণে এবার মেলার কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি। অনুমতি উপেক্ষা করেই সাধারণ জনগণ এ মেলার আয়োজন করে। আমরা মেলায় গিয়ে তাদের নিষেধ করেছি।