বাসের আসনে বসার মতো ‘তুচ্ছ ঘটনায়’ সুপারভাইজারের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি। এর সঙ্গে যুক্ত হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর গেটের স্থানীয় দোকানী। এরপর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয় ঘটনাটি। স্থানীয়দের সেই সংঘর্ষে আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮০ শিক্ষার্থী।

প্রায় ৪ ঘন্টার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হামলা, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আরো শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়।

সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় বগুড়া থেকে ‘মোহাম্মদ’ নামের একটি বাসে রাজশাহী আসছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আলামিন আকাশ। আসনে বসা নিয়ে তার সঙ্গে বাসের চালক শরিফুল ও চালকের সহকারী রিপনের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদপুর গেটে পৌঁছালে আরেক দফা ঝগড়া হয়।

এ সময় স্থানীয় এক দোকানদার এসে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। তখন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে ওই দোকানদারের ওপর চড়াও হন। এরপর স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এক জোট হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। তখন শিক্ষার্থীরাও তাদের ধাওয়া করে। এর পর থেকে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বিনোদপুর।

এক পর্যায়ে বিনোদপুর গেটের কাছে থাকা পুলিশ বক্স ও কয়েকটি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। রাত ১০টা পর্যন্ত ক্যাম্পাস ও বিনোদপুর বাজারে মহাসড়ক দখলে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। এ সময়ে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের ভেতরে নিতে চেষ্টা করেন উপাচার্য গোলাম সাব্বির সাত্তার। উপস্থিত হন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।

সংঘর্ষের প্রায় চার ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গোলাম সাব্বির সাত্তার। এ সময় তিনি রবি ও সোমবার সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের ঘোষণা দেন।

উপাচার্য বলেন, ‘তোমাদের প্রতি অনুরোধ হলে ফিরে যাও। তোমাদের জন্য প্রশাসন সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। রুমে যাও তোমরা। এ ঘটনায় প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে।’

পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়।

এরপরও শিক্ষার্থীরা ফিরে যায়নি, তারা ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের প্রতিবাদ জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদপুর গেটে আবারও জড়ো হয় তারা। হামলা ও ভাঙচুর করতে থাকে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ সময় ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়। এরপর কিছুটা শান্ত হয় পরিবেশ।

এদিকে বিনোদপুরে মেসে যাওয়ার পথে স্থানীয়দের আক্রমণের শিকার হন কিছু শিক্ষার্থী। বিনোদপুরের কয়েকটি মেসে ঢুকে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করার চেষ্টা করেছে স্থানীয়রা এমন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাত ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালে আহত ৮০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া শতাধিক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিনোদপুর বাজারে সাত প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।