জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা আপিল মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ। মামলাটি ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ উল্লেখ করে রায়ের পর্যবেক্ষণে আপিল বিভাগ বলেছেন, ‘এ সিদ্ধান্তের ফলে আপিলকারী এবং যারা আবেদন করতে পারেননি, তারা যে নির্দোষ ছিলেন, তা আবারও প্রতিষ্ঠিত হবে।’
বুধবার (১৫ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ৫ বিচারপতির আপিল বিভাগ সর্বসম্মতিক্রমে এই রায় ঘোষণা করেন। এর আগে মোট চার দিনের মতো শুনানি শেষে রায়ের জন্য এই দিন ধার্য করা হয়েছিল।
পর্যবেক্ষণসহ মামলার রায়ে আদালত বলেছেন, ‘সর্বসম্মতিক্রমে সবার আপিল মঞ্জুর করা হলো। সেইসঙ্গে হাইকোর্ট ও বিচারিক আদালতের রায় বাতিল করা হলো। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দেয়া হলো। মামলাটি বিদ্বেষপূর্ণ বলে গণ্য হলো। যারা আপিল করেননি, এ রায় তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।’ এরমধ্য দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রমের অবসান ঘটবে বলেও উল্লেখ করেন আপিল বিভাগ।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ। কাজী সালিমুল হক কামালের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আসিফ হাসান।
রায়ের পর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, যে মামলায় কিছুই ছিলো না। সেই মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ ৫ বছর থেকে ১০ বছর করেছেন। এটা খুবই দুঃখজনক। সেই মামলার মধ্যে কোনো সারবত্তাই ছিলো না। অর্থাৎ বিচার ব্যবস্থা বলে কিছু ছিল না। ফ্যাসিস্ট সরকার যেভাবে বলতো সেভাবে রায় হতো। আজকে মনে হয়েছে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করেছে। এই প্রসিকিউশন ছিলো ম্যালিসাস। একটা বিদ্বেষমূলক প্রতিহিংসামূলক। কার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা? পুরো জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে। সারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা। আজ আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টের রায় বাতিল করা হয়েছে। যারা আপিল করতে পারেননি তারাও নির্দোষ প্রমাণিত হল।
আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ফুলকোর্ট থেকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর অপর সব আসামী ন্যায়বিচার পেয়েছেন। তিনি বলেন, এই মামলাটা ছিল শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত জিঘাংসা, প্রতিহিংসা এবং রাজনৈতিকভাবে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারকে খাটো করার জন্য, নিশ্চিহ্ন করার জন্য, রাজনৈতিক চিন্তা চেতনায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়ছিল।
তিনি আরো বলেন, আজ আদালতের রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হল বেগম খালেদা জিয়া নিষ্পাপ। সর্বোচ্চ আদালত বলেছেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। আজকের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে, শেখ হাসিনা তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উচ্চাভিলাস এবং ফ্যাসিজমকে দীর্ঘায়িত করার জন্য খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ অপর অপর আসামীদের এইখানে অন্তর্ভূক্ত করেছিলেন। সব কিছু ছিল রাজনৈতিক স্কিমের অংশ। ৫ বছরের সাজাকে ১০ বছর করা হয়।
দুদকের আইনজীবী আসিফ হাসান জানান, মোট চারটা আপিল ছিলো। চারটাই মঞ্জুর করেছেন। হাইকোর্ট ডিভিশন এবং বিচারিক আদালতের রায় বাতিল করেছেন। সাথে সাথে যারা আপিল করতে পারেননি, তাদেরকেও খালাস দিয়েছেন। যেহেতু পুরো মামলাটাই বলেছেন-ম্যালিসাস প্রসিকিউশন (বিদ্বেষপূর্ণ কার্যধারা)। তাই তারাও এই সুবিধা পেয়ে খালাস পেলেন। দুইজনের মধ্যে একজন তারেক রহমান। আরেকজন কামাল সিদ্দিকী। রায়টি দুদককে জানাবো। তারপর দুদক সিদ্ধান্ত নিবে।










