নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে চীনের পরিবহন মন্ত্রী লিউ ওয়েইর একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ অক্টোবর) চীনের সাংহাইতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় নৌপরিবহন খাতে চলমান সহযোগিতা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। উভয়পক্ষ দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে।

বৈঠকে বিশেষভাবে চীনের সহযোগিতায় মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, চীনের এক্সিম ব্যাংকের সাথে চলমান চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয় এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কারিগরি সহায়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়াও চীনের বিখ্যাত ইয়েনতাই বন্দরের সঙ্গে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে কাজ করলে পোর্ট ফ্যাসিলিটি বাড়বে বলে বৈঠকে সহমত পোষণ করা হয়।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, চীনের বন্দর পরিচালনা ও ব্যবস্হাপনায় দক্ষতা খুবই উন্নত। চীনের বিভিন্ন বন্দর ক্রমবর্ধমান কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তা বাংলাদেশের বন্দরগুলো কাজে লাগাতে পারবে। তিনি মোংলা বন্দরে বাংলাদেশ-চীন জিটুজি ভিত্তিতে বাস্তবায়নাধীন ‘এক্সপানশন অ্যান্ড মর্ডানাইজেশন অব মোংলা পোর্ট’ প্রকল্পের জন্য চায়না এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে দ্রুত লোন চুক্তি করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে চীনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেয়া হয়।

উপদেষ্টা বলেন, চীনের মেরিটাইম সেক্টর বেশ আধুনিক। গোয়াংজু মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সী ফেয়ারদের প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান ভাগাভাগিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ সহযোগিতা আরো বাড়ানোর বিষয়ে একমত প্রকাশ করা হয়। তিনি বাংলাদেশী সী ফেয়ারদের চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার আহ্বান জানান।

চীনের পরিবহন মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে প্রথম দেশ হিসেবে স্বাক্ষর করেছে। এটি দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার প্রতিফলন, যা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আগের চেয়ে সুদৃঢ় করবে।

বৈঠকে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বাংলাদেশের সব সমুদ্র ও নদীবন্দর উন্নয়নে চীনের অব্যাহত সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে মোংলা বন্দরের সঙ্গে ইয়ানতাই বন্দরের সম্পর্ক উন্নয়ন এবং সমুদ্রগামী জাহাজে প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা ও নাবিক নিয়োগে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন।

বৈঠক শেষ হয় দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আশ্বাস ও উভয়পক্ষের সন্তোষ প্রকাশের মাধ্যমে। বৈঠকে উভয় দেশের উর্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।