ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রুটে প্রথম বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচল শুরু আজ। দুপুরে কক্সবাজার থেকে একটি ট্রেন ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসবে। রাতে কমলাপুর স্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে দিনের দ্বিতীয় ট্রেন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ নতুন এই রেলপথ উদ্বোধনের পর বাণিজ্যিক ট্রেন সার্ভিস চালু হলেও ট্রেন পরিচালনায় স্থায়ী কোনো জনবল কাঠামো সাজাতে পারেনি রেলওয়ে। বাধ্য হয়ে অস্থায়ী জনবল দিয়েই নতুন এই রেলপথের ট্রেন চলাচল শুরু করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রেলপথটির প্রায় ১০ শতাংশ কাজ শেষ হয়নি। যদিও সরকারের শেষ সময়ে রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্প উদ্বোধন করে দেয়া হয় ১১ নভেম্বর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধনের সময় ডিসেম্বরে ঢাকা থেকে একটি ও চট্টগ্রাম থেকে একটি ট্রেন চালানোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু জনবল, ইঞ্জিনস্বল্পতায় চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন চালু করতে পারেনি রেলওয়ে। 

এদিকে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে প্রায় এক হাজার লোকবলের পরিকল্পনা থাকলেও নতুন ট্রেন চালাতে লোকবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে খুবই সীমিত। সর্বশেষ প্রকৌশল বিভাগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৫০ জন অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনে চারজন স্টেশন মাস্টার ও চারজন পয়েন্টস ম্যান নিয়োগ দেয়া হয়েছে। 

রেলের এ-সংক্রান্ত তথ্যে দেখা গেছে, ২৬ নভেম্বর পূর্বাঞ্চলের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা-২ মো. ফেরদৌস স্বাক্ষরিত চিঠিতে একজন স্টেশন মাস্টার (গ্রেড-৩), একজন স্টেশন মাস্টার (গ্রেড-৪) ও দুজন সহকারী স্টেশন মাস্টার পদায়ন করা হয়। 

এর আগে গত ২০ নভেম্বর দোহাজারী-কক্সবাজার সেকশনে স্বাভাবিক ট্রেন চলাচলের স্বার্থে ৫০ জন অস্থায়ী কিংবা আউটসোর্সিং ভিত্তিতে শ্রমিক (টিএলআর) নিয়োগ অনুমোদনের জন্য চিঠি দেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু জাফর মিঞা। 

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প শেষ না হওয়ায় এই রুটের জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি। তাছাড়া রেলে চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত লোকবল দিয়ে চলছে ট্রেন পরিচালনার কাজ। যে কারণে নতুন ট্রেন সার্ভিস চালুর ঘোষণার পরও পর্যাপ্ত সংখ্যক লোকবল পদায়ন করা সম্ভব হয়নি। এজন্য নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন চালাতে কিছুটা গড়িমসি করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। 

জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মো. শহিদুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দোহাজারী-কক্সবাজার পর্যন্ত চলমান প্রকল্পটি এখনো শেষ হয়নি। এর পরও আমরা একটি ট্রেন ঢাকা থেকে কক্সবাজার পরিচালনা করছি। আশা করি, কিছুদিনের মধ্যে চট্টগ্রাম থেকেও একটি ট্রেন চালানো হবে। প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় এখনো নতুন লোকবল নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি। যার কারণে অস্থায়ী ভিত্তিতে লোকবল নিয়োগ ছাড়া উপায় নেই।’ 

জানা গেছে, কক্সবাজার রুটে ট্রেন পরিচালনার জন্য ২৪ জন অবসরে যাওয়া দক্ষ লোকোমাস্টারকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। রেলওয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেলে আগামী বছরের শুরুতে এসব লোকোমাস্টার কক্সবাজার পর্যন্ত বিভিন্ন ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত হবেন। তীব্র ইঞ্জিন সংকটে থাকা রেলওয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন পরিচালনার জন্য ওয়ার্কশপে মেরামতকাজ শেষে ইঞ্জিনের সরবরাহ বাড়িয়ে এই রুটে ট্রেন চলাচলকে প্রাধান্য দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তারা।