সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। খবর বাসস।

আজ সোমবার (২০ জানুয়ারি) তাদের কারাগার থেকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা তাদের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন। অপরদিকে তাদের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমান জামিন আবেদন নাকচ করে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

যাত্রাবাড়ী থানার জিসান হত্যা মামলায় সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক, হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এই মামলায় দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

অন্যদিকে যাত্রাবাড়ী থানার মেহেদী হাসান হত্যা মামলায় আনিসুল হক, রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনুকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। এই মামলাতেও দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল।

জিসান হত্যা মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে আন্দোলনে অংশ নেন জিসান। এ সময় আসামিদের গুলিতে তিনি নিহত হন। এরপর যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

মেহেদী হত্যা মামলায় উল্লেখ করা হয়, ১৮ জুলাই কমপ্লিট শাটডাউনের সময় যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেন মেহেদী হাসান। সেখানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও পুলিশের গুলিতে তিনি আহত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ আগস্ট গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে নৌপথে পালানোর সময় সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ২২ আগস্ট গুলশান এলাকা থেকে রাশেদ খান মেনন ও ২৬ আগস্ট উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেফতার করা হয়। সর্বশেষ, ৩ সেপ্টেম্বর রাতে মামুনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।