কোনো দল যখন নিবন্ধিত হয়, তখন তাকে কমিশনের নির্ধারিত প্রতীকের তালিকা থেকেই একটি প্রতীক নিতে হয়। তবে ‘নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তালিকায় এনসিপির দাবি করা প্রতীকটি না থাকায়, তা দিতে পারিনি বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। তিনি বলেন, এনসিপি যেটি চেয়েছিল, সেটা তালিকাভুক্ত ছিল না। কমিশন চাইলে প্রতীক বাড়াতে ও কমাতে পারে।’

রোববার ( ১২ অক্টোবর) দুপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিভাগের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ কথা বলেন। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘বিধান হলো যে তালিকাভুক্ত প্রতীক আছে, ওখান থেকে নিতে হবে। এখন পর্যন্ত তালিকার বাইরে থাকা প্রতীক কমিশন কাউকে দেয়নি। তবে কমিশন চাইলে প্রতীক বাড়াতে ও কমাতে পারে। আগে ১১৫টি প্রতীক ছিল না, এখন আছে।’

এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘যারা এনসিপিতে নেতৃত্বে আছেন, যাদের দেখি বা আমাদের সঙ্গে যারা মিটিং করতে আসেন, তারা কিন্তু ২০২৪–এর আন্দোলনে অ্যাকটিভলি পার্টিসিপেট, ইনভলভ ছিলেন (সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ)। এমন লোকজন কিন্তু এই দলটার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তারা (এনসিপি) গণতন্ত্রায়ণের পথে নিজেরা বাধা সৃষ্টি করবে, এটা আমি মনে করি না।’ তিনি বলেন, ‘আমি তাদের দেশপ্রেমিক এবং কোনো অংশেই, তাদের কম দেশপ্রেমিক আমি ভাবতে চাই না। তা না হলে তারা এ রকম জান দেয়ার জন্য রাস্তায় নামতেন না। তাই যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন এনসিপিকে, তারা জীবনের অনেক ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। সুতরাং তারাও দেশের মঙ্গল চান। তারাও দেশের গণতন্ত্র চান। আমার বিশ্বাস, গণতন্ত্রের উত্তরণটা যাতে সুন্দর হয়, সুষ্ঠু হয়, এ রকম একটা পরিবেশে ওনারা সম্মতি দেবেন।’

সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থার ব্যাপারে এনসিপির বক্তব্য তিনি শোনেননি। কোন পরিপ্রেক্ষিতে বলছেন, তা বুঝতে পারছেন না।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে। সভায় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন। এতে চট্টগ্রাম বিভাগের সব জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি অংশ নেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারাও। সভায় নির্বাচন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।