নভেল করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতে অনেক দেশেই শ্রমিকদের ৫০ শতাংশ বেতন পরিশোধ করেছে দাবি করে নিট গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান বলেছেন, ‘আমরা ৬৫ শতাংশ বেতন দিয়েছি, অনেক গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠান বোনাসও দিয়েছে। সরকার আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।’

করোনার এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে হলে রফতানির কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে হবে জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমরা আশার বানী শুনতে পাচ্ছি, এরই মধ্যে ইতালি লকডাউন খুলে দিচ্ছে। সকল ব্যবসা-বাণিজ্য চালু করছে। ইউরোপের আরেক দেশ জার্মানিও গার্মেন্টস সেক্টরে অর্ডার দিচ্ছে। অনেক বায়ার পণ্যের জন্য আমাদের চাপ দিচ্ছে। এই অবস্থায় আমাদের অনেক গার্মেন্টের হাতে কাজ আছে, আবার অনেকের হাতে কাজ বা অর্ডার নেই।’ রফতানি সচল রাখতে এবার ঈদের পরের দিনই অনেক গার্মেন্ট খুলে যাবে বলেও জানান গার্মেন্ট ব্যাবসায়ীদের এই নেতা।

আজ শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিকেএমইএ প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সেলিম ওসমান বলেন, ‘আমাদের উপর আল্লাহ আমাদের রহমত করছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পান থেকে সুন্দরবন আমাদের রক্ষা করেছেন। দুর্যোগ আসবেই কিন্তু আমাদের সাবধান থাকতে হবে। আর আমাদের সাবধান করার দায়িত্ব সাংবাদিকদের। এখন আমরা একসাথে বসে কথা বলার সুযোগ নাই। আপনারাই পারেন সেগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরতে।’

করোনার এই দুর্যোগকালে সামনের সারির কর্মীদের কথা তুলে ধরে সেলিম ওসমান বলেন, ‘কাজ করতে গিয়ে সব থেকে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন চিকিৎসক, সাংবাদিক ও পুলিশ। যদি চিকিৎসকদের সাপোর্ট পর্যাপ্ত না পাওয়া যায়, তবে আমাদের করণীয় কী হতে পারে -এগুলো আপনাদের মাধ্যমে সুচিন্তিত মতামতের প্রয়োজন। আল্লাহ মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ১০০ বছরে একবার মহামারী দেন। আমি সকলের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করবো সবার মাঝে যেন ঈমান ফিরে আসে। আগে এতো সাংবাদিক বা সংবাদপত্র ছিল না। এখন জনসংখ্যা বেড়েছে তাই সংবাদপত্র সাংবাদিক বেড়েছে প্রতিযোগিতা বেড়েছে।’

এসময় তিনি বলেন, ‘আমরা সাংবাদিকদের জন্য অনেক কিছু করতে পারতাম। কিন্তু কোন আহ্বান ছিল না। অনেক জায়গা আছে যেগুলো ব্যবসায়ীরা নিয়ে নিচ্ছেন। বন্দরে নদীর পাড়ে একটি জায়গা আছে যেখানে আমরা সাংবাদিকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করতে পারতাম। কিন্তু কোন আহ্বান ছিল না। হয়তো এই দায়িত্বটা আমারই ছিল, আমি করতে পারিনি। আমাদের শীতলক্ষ্যা নদীতে নাসিম ওসমান সেতু, খানপুর হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজ, বন্দর শান্তিরচরে নিট পল্লী সব কিছুর অনুমোদন পেয়েও থমকে আছে। কারণ এগুলো নিয়ে কোন আলোচনা নাই। আপনাদের এগুলো লেখনির মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে। আপনারা সাংবাদিকরা নিজেদের মাঝে বিভক্তি না রেখে আপনার একত্রিত হোন। আমরা একটা সুন্দর নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলবো।’

পরে তিনি নারায়ণগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকদের শুভেচ্ছা উপহার দেন। এসময় নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, বিকেএমইএর সহ-সভাপতি (অর্থ) রাশেদ সারোয়ার সোহেলসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।