মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনতে মাঠপর্যায়ের পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন বাহিনী প্রধান আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, ‘অপরাধীর ক্ষেত্রে কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনার সুযোগ নেই; অপরাধীর একমাত্র পরিচয় অপরাধী।’

গতকাল পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত আগস্টের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এ নির্দেশনা দেন। সভায় আইজিপি বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের “‍জিরো টলারেন্স” নীতি অব্যাহত থাকবে। মাদক কারবার ও মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’ এক্ষেত্রে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সভায় কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধেও ‘যথাযথ আইনি ব্যবস্থা’ নেয়ার জন্য নির্দেশও দিয়েছেন আইজিপি। পুলিশ প্রধান বলেন, ‘কিশোর গ্যাং সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। তাদের পেছনে কোনো প্রভাবশালী রয়েছে কিনা তা উদঘাটন করে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

আসন্ন দুর্গা পূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে উদযাপন করতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নির্দেশনাও দেন আলী হোসেন ফকির। প্রতিটি ইউনিটকে নিজ নিজ নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘পূজাকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার হতে পারে। এ বিষয়ে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।’

দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের যথাযথভাবে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ ব্যবহারের নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় আগস্টের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসহ সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, ধর্ষণ, পুলিশ আক্রান্ত ও অপহরণ মামলা এবং মুলতবি গ্রেফতারি পরোয়ানা, তদন্ত ও বিচারের ফলাফল, সাজার হারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) সায়েদুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।