গতকাল নিজ নিজ গ্রামে পারিবারিক ও সামাজিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ও একজন নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা।
এদিন সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে সাতজনের সম্মিলিত জানাজা হয়। এতে স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। জানাজা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সৌদি দূতাবাস থেকে পাঠানো তালিকায় শনাক্ত নওগাঁর সাতজন হলেন আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামাণিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও তার ভাই সুমন আলী, বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা ও পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।
আত্রাইয়ের গোণ্ডগোহালী গ্রামের চারজনের মরদেহ বিকালে দ্বিতীয় দফায় জানাজা শেষে পাশাপাশি দাফন করা হয়। দুই ভাই মোহন আলী ও সুমন আলীকে এক পাশে এবং রুবেল প্রামাণিক ও কলিমুদ্দিনকে অন্য পাশে শায়িত করা হয়। একসঙ্গে চারটি মরদেহ গ্রামে আসায় গোণ্ডগোহালীতে শোকের ছায়া নেমে আসে।
অন্যদিকে, নাটোরে নিহত রবিউল ইসলাম হৃদয়ের জানাজা সকাল ১০টায় মহিষডাঙ্গা ভাটোপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
রবিউলের বাবা আশরাফুল ইসলাম জানান, পাঁচ বছর আগে ধারদেনা করে ছেলে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। আগুনে তার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। এখন কীভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন, সেই চিন্তায় তিনি সরকারের সহযোগিতা চান।
নলডাঙ্গা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসেন জানান, নাটোরের বাকি দুজনের ডিএনএ পরীক্ষা শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো দেশে আসে। বিমানবন্দর থেকে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে গভীর রাতে মরদেহ নিজ নিজ এলাকায় পৌঁছায়।
গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশী নিহত হন।










