এ ঘটনায় ‘দ্য শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং রুলস, ২০১১’-এর সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ইয়ার্ড মালিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে আমদানীকৃত জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংকের স্যাম্পল টেস্ট ও ডিজিটাল রিপোর্ট বাধ্যতামূলক করাসহ ৩৫টি সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
গতকাল দুপুরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনে ইয়ার্ডে কোথায় কোথায় অবহেলা ও নিরাপত্তা ঘাটতি ছিল, সেসব বিষয় উঠে এসেছে। বিধি অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
মন্ত্রী জানান, গত ১৪ আগস্ট ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ইয়ার্ডে জাহাজ ভাঙার কাজ চলছিল। এ সময় একটি ব্যালাস্ট ট্যাংকে ছিদ্র করার সময় সেখান থেকে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস বের হয়। গ্যাসের সংস্পর্শে এসে ঘটনাস্থলে কর্মরত ১০ শ্রমিক চেতনা হারান এবং পরে তাদের মৃত্যু হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যালাস্ট ট্যাংক থেকে প্রাণঘাতী গ্যাস নিঃসরণের ঝুঁকি সম্পর্কে এ খাতে আগে পর্যাপ্ত ধারণা ছিল না। এ দুর্ঘটনা থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নেয়া হয়েছে। শিপ রিসাইক্লিং খাতটি বিকাশমান শিল্প। খাতকে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব করতে সরকার কাজ করছে। এরই মধ্যে কয়েকটি ইয়ার্ড “গ্রিন সার্টিফায়েড” হয়েছে এবং আরো কয়েকটি সার্টিফিকেশনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।’
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব একেএম বেনজামিন রিয়াজী বলেন, ‘ট্যাংক ছিদ্র করার সময় শ্রমিকদের কোনো গ্যাস মাস্ক বা এসসিবিএ ব্যবহার করতে দেয়া হয়নি। ছুটির দিনে ঝুঁকিপূর্ণ এ কাজ পরিচালনা করা হলেও ঘটনাস্থলে সেফটি ম্যানেজার, অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি উদ্ধার টিম ছিল না।’










