অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় স্বামীর বাড়িতে এসে আটক হয়েছেন এক ভারতীয় নারী। তিন বছরের শিশুসহ ওই গৃহবধূকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে বিজিবি। 

গতকাল শুক্রবার ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা অনন্তপুর চানদোলার পাড় গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে ওবাইদুল হকের বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। আজ শনিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রেবেশের অভিযোগে বিজিবি বাদী হয়ে ফুলবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেছে।

ওই ভারতীয় গৃহবধূর নাম সুনিয়া সাউ (২৯)। তিনি ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের মঙ্গলী জেলার জেড়াগাও থানার মৃত ফাগুরাম সাউ ও রাজকুমারী দম্পতির মেয়ে। তার প্রথম বিয়ে হয় একই রাজ্যের ধনউড়া এলাকার রোহিত শর্মার সঙ্গে। ওই গৃহবূধর আগের স্বামীর এক ছেলে এক মেয়ে রয়েছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস ছালাম জানান, কুড়িগ্রাম ফুলবাড়ী উপজেলার সীমান্তঘেঁষা কাশিপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর চানদোলার পাড় গ্রামে মৃত আবুল কাসেম আলীর ছেলে ওবায়দুল হক বৈধ পাসপোর্ট নিয়ে ভারতে শ্রমিকের কাজ করতে যান। কাজের সুবাদে ওই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সাড়ে চার বছর আগে ভারতের দিল্লিশহরে তারা বিয়ে করেন। তাদের ঘরে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। ছেলেটির বয়স তিন বছর। ওবায়দুল হকের  পাসপোর্ট  থাকার সুবাধে বৈধভাবে দেশে ফিরে আসেন । স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল কথা হতো। একমাস আগে দালালের মাধ্যমে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন সুনিয়া।

এদিকে ওবায়দুল হকের স্ত্রী রয়েছে সেটি সুনিয়া জানতে পারেন স্বামীর বাড়ি আসার পর। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে একপ্রকার বোঝাপড়া হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার জেরে প্রথম স্ত্রী কল্পনা বেগম এলাকায় রটিয়ে দেন সুনিয়া অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। বিষয়টি জানার পর তাকে আটক করে বিজিবি।

এ প্রসঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) লালমনিরহাট ১৫ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার  লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম তৌহিদ-উল-আলম জানান, বিষয়টি জানান পর ওই গৃহবধূকে আটক করা হয়েছে। বিএসএফের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, গৃহবধূর সঠিক পরিচয় তাদের জানা নেই। সে জন্য ওই নারীকে নিবেন না। অবৈধ অনুপ্রবেশে দায়ে ওই নারীর নামে মামলা দিয়ে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। 

ফুলবাড়ী থানার ওসি রাজিব কুমার রায় জানান, ভারতীয় ওই গৃহবধূর নামে মামলা দিয়ে থানায় সোপর্দ করা হলে আজ তাকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।