বরিশালে মাহিন্দ্রা, মিশুক (থ্রি হুইলার) ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের যৌথ শ্রমিক কল্যাণ ফির নামে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ-মিছিল করেছেন চালকরা। গতকাল ছয় দফা দাবি নিয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সামনে সড়ক অবরোধ করে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ করেন তারা।

শ্রমিকরা জানান, মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে মাহিন্দ্রা ও সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকদের আয় কমে গেছে। এর মধ্যে প্রতিদিনই শ্রমিক ইউনিয়নের ব্যানারে শ্রমিকদের কল্যাণ ফির নামে অতিরিক্ত চাঁদা আদায় করা। শ্রমিক ইউনিয়নের নামে বছরে পর বছর আমাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছে সংগঠনটি। কিন্তু করোনাকালীন কোনো শ্রমিক সংগঠন থেকে এক কেজি চালও পায়নি। এমনকি অসুস্থ কোনো শ্রমিকের পাশেও থাকে না সংগঠন। শহরের মধ্যে গাড়ি পার্ক করার নির্দিষ্ট কোনো স্থান না থাকার কারণে রং পার্কিং করা হয় বলে প্রতিদিনই ট্রাফিক পুলিশ আমাদের নামে মামলা দেয়। এ ব্যাপারে সংগঠনের কোনো নেতা আমাদের পাশে থাকেন না। প্রতি শুক্রবার রাস্তায় যাত্রী কম থাকে, কিন্তু আমাদের থেকে গাড়ি ভাড়া কম নেন না মালিকরা। আমাদের নানা সমস্যার কথা অনেকবার বলেছি ইউনিয়নকে। তারা কোনো পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত নেয়নি।

কালাম নামে এক সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক বলেন, চারজন লোক নিয়ে নতুল্লাবাদ থেকে লঞ্চঘাট আসছি। এতে আয় হয়েছে ৪০ টাকা। কিন্তু লঞ্চঘাটে আসার সঙ্গে সঙ্গে বরিশালে মাহিন্দ্রা মিশুক ও সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের যৌথ শ্রমিক কল্যাণ ফির ২০ টাকা চাঁদার পরিবর্তে ৩০ টাকা চাঁদার রসিদ আমার হাতে দেন ইউনিয়নের সদস্য সবুজ। পরে আমি জানতে চাইলে সবুজ বলেন, এখন থেকে ২০ টাকার পরিবর্তে ৩০ টাকা চাঁদা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ২০ টাকার পরিবর্তে ৩০ টাকা আদায়ের প্রতিবাদে আমরা সব শ্রমিক এক হয়ে ছয় দফা দাবি নিয়ে গাড়ি বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করি।

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা অটোরিকশা, আলফা, মাহিন্দ্রা ও সিএনজি নামে শ্রমিক ইউনিয়নের লাইন সম্পাদক শামীমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০ টাকার পরিবর্তে ৩০ টাকা নেয়ার কারণে শ্রমিকদের সঙ্গে একটু ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে তা সমাধান হয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর শ্রমিকদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে তাদের দাবি বাস্তবায়ন করব।

১২টি দোকান পুড়ে ছাই: গৌরনদী বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ১২টি দোকান পুড়ে গেছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই বাজারে লেপ-তোশক তৈরির একটি দোকান থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারদিকের দোকানে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করে।

বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. বেলাল উদ্দিন জানান, ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ১ ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।