পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে সর্প দংশন, প্রতিকার, চিকিৎসা এবং রেসকিউ ও অবমুক্তকরণবিষয়ক দুদিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষ হয়েছে। গতকাল সমাপনী দিনে প্রশিক্ষণার্থীদের বিভিন্ন প্রজাতির বিষধর, নির্বিষ সাপ সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয় এবং কীভাবে রেসকিউ ও অবমুক্ত করা যাবে সে সম্পর্কে ধারণা নেন প্রশিক্ষণার্থীরা।
কর্মশালায় প্রশিক্ষকরা জানান, সাপ পরিবেশ ও প্রতিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাপ নিয়ে মানুষের মধ্যে ভীতির পাশাপাশি অজ্ঞতাও রয়েছে। দেশে প্রতি বছরে চার লাখ মানুষ সাপের দংশনের শিকার হয়। যার মধ্যে সাড়ে সাত হাজার মানুষ মারা যায়। তবে দেশে সাপে কাটা রোগীর বেশির ভাগই মারা যায় আতঙ্কে হৃৎক্রিয়া বন্ধ হয়ে। এশিয়ার মধ্যে শুধু ভারতেই প্রতি বছর ৫০ হাজার মানুষ সাপের দংশনে মারা যায়। বাংলাদেশে বর্তমানে ১১৭ প্রজাতির সাপ রয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ প্রজাতি বিষধর এবং ৮৩ প্রজাতির সাপ নির্বিষ।
কর্মশালার শেষ দিনে অংশগ্রহণকারীরা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেন এবং সনদ বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আয়োজন। পার্বত্য চট্টগ্রামে এটিই প্রথমবারের মতো সর্পবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের আয়োজনে বন সংরক্ষক রাঙ্গামাটি অঞ্চল কার্যালয়ের সভাকক্ষে দুদিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়। কর্মশালার প্রশিক্ষক ছিলেন বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ মো. আবু সাঈদ। প্রশিক্ষণে বন কর্মকর্তা, সাপ উদ্ধারকারী দলের প্রতিনিধি, যুব সংগঠক, বনকর্মী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীসহ ২৫ জন অংশ নেন।
প্রশিক্ষণ শেষে সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ছালেহ মো. শোয়াইব খান এবং বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ আবু সাঈদ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে হাতে-কলমের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কাল নাগিনী, দুধরাজ, দাঁড়াস ও পদ্মগোখরা এ চারটি সাপ সম্পর্কে বিশদ ধারণা নেন এবং রেসকিউ, অবমুক্ত করার পদ্ধতি ব্যবহারিকভাবে শেখেন।
বন কর্মকর্তারা জানান, সাপ পরিবেশ ও প্রতিবেশের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ফরেস্ট ইকো-সিস্টেমের খাদ্য শৃঙ্খলেও ভূমিকা আছে প্রাণীটির। সাপ ইঁদুর খাওয়ার কারণে ফসলে ইঁদুরের আক্রমণ কম হয়ে থাকে। সাপকে ভয় পাওয়ার প্রধান কারণ সাপ সম্পর্কে না জানা। সাপ নিয়ে মানুষের ভীতি কমলে মারার প্রবণতাও বন্ধ হয়ে যাবে।










