প্রস্তাবিত জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সম্পাদক পরিষদ। নির্বাচনের অল্প কিছুদিন আগে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের খসড়া তড়িঘড়ি প্রকাশ করাকে অনভিপ্রেত ও অযৌক্তিক বলে মনে করে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের এ সংগঠন।
গতকাল সম্পাদক পরিষদের পক্ষে সভাপতি নূরুল কবীর ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
প্রসঙ্গত, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা পড়েছিল গত বছরের মার্চে। এ প্রতিবেদন জমা পড়ার ১০ মাসে কোনো সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়নি। এখন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর একটি খসড়া তৈরি করে তার ওপর মতামত নিতে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে গত বুধবার। আর মতামত দিতে সময় দেয়া হয়েছিল মাত্র তিনদিন। তার আগে মঙ্গলবার সম্প্রচার কমিশন গঠনের জন্য অধ্যাদেশের খসড়াও প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ দুটি আলাদা কমিশন করতে চায় তথ্য মন্ত্রণালয়।
সম্পাদক পরিষদের বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন-সংক্রান্ত যে দুটি খসড়া অধ্যাদেশ সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো প্রণয়নের প্রক্রিয়া ও সময় নির্বাচন নিয়ে সম্পাদক পরিষদ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। নির্বাচন যখন একেবারে সন্নিকটে, তখন এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাবসম্পন্ন খসড়া অধ্যাদেশ তড়িঘড়ি প্রকাশ করাকে সম্পাদক পরিষদ অনভিপ্রেত ও অযৌক্তিক মনে করে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকতার পেশাগত মান এবং সম্প্রচার ব্যবস্থার ভবিষ্যতের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট আইনের এমন খসড়া যথাযথ আলোচনা ও পর্যালোচনা ছাড়া প্রণয়ন করা গ্রহণযোগ্য নয়।
সম্পাদক পরিষদ মনে করছে, এ খসড়া অধ্যাদেশগুলোর কাঠামো ও বিধানগুলোতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষার পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কা স্পষ্ট। এছাড়া সীমিত সময়ের মধ্যে মতামত আহ্বান করে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।
সম্পাদক পরিষদ আরো মনে করে, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন নির্বাচিত সংসদ গঠনের পর সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন, সাংবাদিক, সম্পাদক, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিস্তৃত ও অর্থবহ আলোচনার মাধ্যমে হওয়াই সমীচীন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নে তড়িঘড়ি নয়; বরং স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও দায়িত্বশীল প্রক্রিয়াই দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সর্বোত্তম।










