ঢাকা থেকে বরিশাল অঞ্চলের ৪২টি নৌ-রুটে প্রতিদিন চলাচল করছে শতাধিক যাত্রীবাহী বিলাসবহুল লঞ্চ। আর এসব রুটের অধিকাংশ যাত্রীবাহী লঞ্চে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। লঞ্চের কাগুজে সার্ভে সনদে অগ্নিনির্বাপণের যন্ত্রাংশ অনেকটাই মেয়াদোত্তীর্ণ। দক্ষ জনবল না থাকায় এগুলো ব্যবহার করতেও জানেন না লঞ্চের স্টাফরা। যে কারণে সুগন্ধায় এমভি অভিযান-১০-এর মতো দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করেছেন সংশ্লিষ্টরা। লঞ্চমালিকরা সার্ভে সনদ অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখার কথা বললেও নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা মেয়াদোত্তীর্ণ ও অদক্ষ জনবল থাকার বিষয়টিতে একমত পোষণ করেছেন।
শনিবার দুপুরে বরিশাল নৌ-বন্দর ঘুরে লঞ্চগুলোতে অপ্রতুল অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা দেখা গেছে। কয়েকটি লঞ্চের বিভিন্ন ফ্লোর ঘুরেও অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। লঞ্চের ইঞ্জিন রুমের পাশেই চলছে রান্নাবান্নার কাজ। এক পাশে ছোট টি-স্টল। যে কেউ ইঞ্জিন রুমের কাছে চলে আসছেন অনায়াসে।
জানতে চাইলে এমভি সুন্দরবন-১০ লঞ্চের মাস্টার মজিবর রহমান বলেন, বরিশাল-ঢাকা নৌ-পথে লঞ্চের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বেশ দুর্বল। সার্ভে সনদে যে পরিমাণ অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র দেয়া হয় তা পর্যাপ্ত কিনা সেটা ভাবার সময় এসেছে। সুন্দরবন-৭ লঞ্চে ২০০৯ সালে আগুন লেগেছিল। এগুলো ব্যবহার করার দক্ষ জনবল নেই। এজন্য প্রশিক্ষণ দেয়া দরকার। ইঞ্জিন রুমে বড় চারটি ফোম টাইপ থাকা দরকার। আগুন নিয়ন্ত্রণের পোশাক, বুট, মাস্ক কোনো লঞ্চেই নেই। এছাড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে বালি ও বালতি রাখতে হয়।
লিঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও সুন্দরবন-১১-এর মাস্টার আলমগীর হোসেন আলম বলেন, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র লঞ্চগুলোতে যে পরিমাণ আছে সেগুলো ব্যবহারে দক্ষ জনবল নেই। যখন ব্যবহার করতে হবে তখন প্রয়োগ না করতে পারলে সুগন্ধায় এমভি অভিযান-১০-এর মতোই ঘটনা আবার ঘটতে পারে। তিনি বলেন, এসব ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা করা হয়নি। এগুলো দেখারও কেউ নেই।
লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু এ প্রসঙ্গে বলেন, বরিশাল-ঢাকা নৌ-পথে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা শত ভাগ রয়েছে। প্রতি বছর সব লঞ্চে সার্ভে হচ্ছে। ইঞ্জিন রুমে সব ব্যবস্থা আছে। তবে সুগন্ধ্যা নদীতে কেন দুর্ঘটনা ঘটল তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।
এ ব্যাপারে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর বরিশালের পরিদর্শক নুরুল করিম বলেন, সার্ভে সনদ হিসেবে বরিশাল-ঢাকা লঞ্চে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র আছে। এখন প্রকৃত অর্থে কী অবস্থায় আছে তা নতুন করে দেখতে হবে। মাস্টাররা মেয়াদোত্তীর্ণের কথা বললে তাদের সঙ্গে এক মত পোষণ করছি।










