উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি এই স্লোগানে শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৩তম “প্রজাপতি মেলা ২০২৩”। বুধবার (২২ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার শিক্ষক লাউঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেলার আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনোয়ার হোসেন এ কথা জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের কীটতত্ত্ব শাখার আয়োজনে দিনব্যাপী এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি জানান, প্রতিবছরের মতো এবারের মেলায় থাকবে র্যালি, প্রজাপতির গল্পে পাপেট শো ও প্রজাপতির অরিগ্যামি প্যারেড, শিশু-কিশোরদের জন্য প্রজাপতিবিষয়ক ছবি আঁকা ও কুইজ প্রতিযোগিতা, প্রজাপতি বিষয়ক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী, জীবন্ত প্রজাপতি প্রদর্শন, প্রজাপতি চেনা প্রতিযোগিতা, প্রজাপতির আদলে ঘুড়ি ওড়ানো, বারোয়ারি বিতর্ক, প্রজাপতিবিষয়ক ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজন।
প্রতি বছরের মতো এবারও বন্যপ্রাণী ও প্রজাপতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জহির রায়হানকে ‘বাটারফ্লাই ইয়াং ইনথুসিয়াস্ট-২০২৩’ অ্যাওয়ার্ড দেয়া হবে।
অধ্যাপক ড. মনোয়ার হোসেন বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে প্রজাপতির সংখ্যা কমে গেছে এবং স্বাভাবিক বংশ বিস্তারে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। আগে জাহাঙ্গীরনগরে ১২০ প্রজাতির পাওয়া গেলেও বর্তমানে ৫২ প্রজাতির প্রজাপতি পাওয়া যায়। সারা দেশে যত প্রজাতির প্রজাপতি পাওয়া যায় তার এক-চতুর্থাংশ পাওয়া যেত এ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। তবে বিগত কয়েক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিক পরিমাণে গাছ ও ঝোপঝাড় কেটে ফেলার ফলে এখন তার পরিমাণ অর্ধেকের বেশি কমে গেছে। প্রজাপতির এই বিলুপ্তি আটকাতে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর প্রজাপতি মেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রজাপতি সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষে ২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রজাপতি মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।










