হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য বরগুনায় ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে নির্মাণ করা হয় ৩০০টি সেতু। লোহার বিমের ওপর কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল সেতুগুলো। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় হালকা যান চলাচল প্রকল্পের অধীনে নির্মিত এসব সেতুর ২৬৬টিই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও স্থানীয়রা বাঁশ, কাঠ দিয়ে কোনো রকমে চলাচল করলেও এসব সেতুতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, ২০০৫ সালে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে গেছে। এরপর এসব সেতু রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি।
এলজিইডি বরগুনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় বরগুনা সদর উপজেলায় ৩৫টি, বেতাগীতে ৪৬, বামনায় ৩৬, পাথরঘাটায় ৬২ ও আমতলী উপজেলায় ৮৭টিসহ প্রায় ৩০০ সেতু নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটি ২০০৫ সাল পর্যন্ত কার্যকর ছিল। এরপর প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। এ কারণে এসব সেতু রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেরামতে আর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
প্রায় ২০ বছর আগে তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের সানুর বাজারে বেহালা খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। আট বছর আগে সেতুটি ভেঙে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পরে স্থানীয়রা কাঠ-বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে পারাপার হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভাঙা সেতু দিয়ে কোনো যানবাহন পার হতে পারে না। সাঁকো দিয়ে পার হতে গিয়ে খালে পড়ে আহত হয়েছে শিশুসহ অনেকে। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছে ওই এলাকার অন্তত ২০ হাজার মানুষ।
বেহেলা গ্রামের নির্মল হাওলাদার বলেন, ‘ভাঙা সেতুর কারণে গ্রামে অ্যাম্বুলেন্স আসতে পারে না। সেতুটি এখন আমাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ সেতু না থাকলে নতুন সেতু নির্মাণ করা হতো।’
এ বিষয়ে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ কথা না বললেও ভাঙা সেতুগুলো দ্রুত মেরামতের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য।
জেলা প্রশাসক মুহা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যেখানে মানুষের বেশি দুর্ভোগ হচ্ছে, আমরা চেষ্টা করছি সেগুলো সমাধান করার। যদি জেলা পরিষদের পক্ষে কাজগুলো করা সম্ভব হয়, তাদের মাধ্যমে সেতুগুলো মেরামত করার চেষ্টা করব। তাদের আওতায় না থাকলে এলজিইডির মাধ্যমে সেতুগুলো মেরামতের চেষ্টা করব।’
বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার টুকু বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধানের সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে যতগুলো সেতু মেরামত করা যায়, তারা সেটা করবেন।’










