তানভীর হাসান জোহা সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিজিটাল ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। সাইবার নিরাপত্তায় উচ্চ শিক্ষা ও ক্যারিয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে
সাইবার নিরাপত্তায় উচ্চ শিক্ষার গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কী?
ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ার সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা এখন জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, প্রতিরক্ষা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে দক্ষ জনবলের প্রয়োজন বাড়ছে। উচ্চ শিক্ষা শিক্ষার্থীদের শুধু প্রযুক্তিগত জ্ঞান নয়, গবেষণা, ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও জটিল নিরাপত্তা সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা তৈরি করে। বাংলাদেশেও এ খাতে দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বিষয়ে পড়তে শিক্ষার্থীদের কী ধরনের প্রাথমিক দক্ষতা প্রয়োজন?
কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং, অপারেটিং সিস্টেম, প্রোগ্রামিং এবং তথ্যপ্রযুক্তির মৌলিক ধারণা থাকা ভালো। বিশেষ করে পাইথন, লিনাক্স, টিসিপি/আইপি এবং ডেটাবেজ সম্পর্কে জ্ঞান শিক্ষার্থীদের এগিয়ে রাখবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বিশ্লেষণী চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, ইংরেজি ভাষায় প্রযুক্তিগত ডকুমেন্টেশন বোঝার সক্ষমতা এবং নৈতিকতা।
চার বছরের স্নাতক ও মাস্টার্স কোর্সে কী পড়ানো হয়?
স্নাতক পর্যায়ে প্রোগ্রামিং, নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি, ক্রিপ্টোগ্রাফি, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন সিকিউরিটি, ডিজিটাল ফরেনসিক, ম্যালওয়্যার অ্যানালাইসিস, এথিক্যাল হ্যাকিং, ক্লাউড সিকিউরিটি ও সাইবার আইন পড়ানো হয়। মাস্টার্স পর্যায়ে অ্যাডভান্সড ডিজিটাল ফরেনসিক, সাইবার থ্রেট ইন্টেলিজেন্স, ইনসিডেন্ট রেসপন্স, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, গবেষণা এবং এআই-ভিত্তিক নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। পাঠ্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ভিন্ন হতে পারে।
কম্পিউটার সায়েন্সের বাইরের শিক্ষার্থীরাও কি এ পেশায় আসতে পারবেন?
অবশ্যই। আইন, গণিত, পরিসংখ্যান, ইলেকট্রনিকস, ব্যবসায় প্রশাসন এমনকি অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরাও সাইবার নিরাপত্তায় ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। বিশেষ করে সাইবার আইন, ডিজিটাল ফরেনসিক, কমপ্লায়েন্স, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ও সাইবার অপরাধ তদন্তে বহুমুখী শিক্ষাগত অভিজ্ঞতার প্রয়োজন রয়েছে। তবে কাজের ধরন অনুযায়ী প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
দেশে ও বিদেশে চাকরির সুযোগ কেমন?
সাইবার নিরাপত্তা শুধু চাকরির বিষয় নয়, এটি মানুষের তথ্য, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রকে সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব। এখানে দেশ ও বিদেশে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে। তবে শুধু ডিগ্রি বা সার্টিফিকেট নয়, বাস্তব দক্ষতা, নিয়মিত অনুশীলন, গবেষণা এবং নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রযুক্তি প্রতিদিন বদলাচ্ছে, তাই শেখার প্রক্রিয়াও চলমান রাখতে হবে। আমার বিশ্বাস, দক্ষ সাইবার নিরাপত্তা পেশাজীবীরা আগামী দিনের ডিজিটাল অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
দেশে ব্যাংক, টেলিকম, সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা ও সাইবার নিরাপত্তা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে সুযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এসওসি অ্যানালিস্ট, ডিজিটাল ফরেনসিক অ্যানালিস্ট, ক্লাউড সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার, ইনসিডেন্ট রেসপন্ডার এবং সিকিউরিটি কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজের সুযোগ রয়েছে। দক্ষতা, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন ক্যারিয়ারে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে।
এআইয়ের বিস্তারে ভবিষ্যতে কোন দক্ষতার চাহিদা বাড়বে?
এআই একদিকে সাইবার আক্রমণকে জটিল করছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষণেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। ভবিষ্যতে এআই সিকিউরিটি, ডিপফেইক ফরেনসিকস, থ্রেট ইন্টেলিজেন্স, অটোমেটেড ইনসিডেন্ট রেসপন্স, এআই মডেল সিকিউরিটি এবং ক্লাউড সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব বাড়বে। শিক্ষার্থীদের এআই প্রযুক্তি বোঝার পাশাপাশি এর অপব্যবহার শনাক্ত ও প্রতিরোধের দক্ষতা অর্জন করতে হবে।










