ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপান্তর ও বৈশ্বিক সাইবার হুমকির মুখে দেশে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের চাহিদা দিন দিন দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তথ্য ও প্রযুক্তির অবকাঠামোগত সুরক্ষায় বিশ্বজুড়ে চাহিদা বাড়তে থাকায় বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যেও সাইবার নিরাপত্তায় পেশা গড়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে দেশের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি সাইবার নিরাপত্তায় চার বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রির সুযোগ এখনো প্রধানত বেসরকারি খাতেই বেশি। অন্যদিকে সরকারি বা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল কিংবা সম্পর্কিত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে মূলত স্নাতকোত্তর ও উচ্চতর গবেষণা পর্যায়ে এ-সংক্রান্ত শিক্ষা দেয়া হচ্ছে।

দেশে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে মেজর হিসেবেও পড়ানো হয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএসসি ইন ইনফরমেশন অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটি নামে দেড় বছর মেয়াদি প্রফেশনাল মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে (বিইউপি) বিএসসি ইন সাইবার সিকিউরিটি প্রোগ্রাম রয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে সরাসরি এমএসসি ইন সাইবার সিকিউরিটি নামে প্রোগ্রাম রয়েছে। ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে এমএসসি ইন সিএসই প্রোগ্রামে মেজর হিসেবে সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে।

আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশে (এআইইউবি) বিএসসি ইন কম্পিউটার নেটওয়ার্ক অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটি প্রোগ্রাম অফার করা হয়। সাইবার সিকিউরিটি সম্পর্কিত কোর্সগুলো কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধীনে পড়ানো হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টির ইনস্টিটিউট অব কন্টিনিউয়িং এডুকেশনের অধীনে সাইবার সিকিউরিটিতে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা (পিজিডি) প্রোগ্রাম রয়েছে। ইউনিভার্সাল কলেজ বাংলাদেশে (ইউসিবি) সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাজ্যের খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ল্যাঙ্কাশায়ারের (ইউসিএলএএন) সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ইউসিবির আওতায় প্রথমবারের মতো সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে তিন বছরের স্নাতক ডিগ্রি নেয়া যাবে। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে, সেখানে কোর্সের বিষয়বস্তু, সময়কাল এবং ভর্তির শর্তাবলি ভিন্ন। তাই আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ভিজিট করে বা সরাসরি যোগাযোগ করে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে হবে।