বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যে চীনা পণ্যের ওপর আরো শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে টুইট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার ৩০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এর প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের দামে। খবর রয়র্টাস।

এ ঘোষণার পর একদিনেই পণ্যটির দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে। চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যে নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণায় প্রভাব পড়েছে ডলারের ওপরও। দুই বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ডলারের বিনিময় হার কমেছে। পাশাপাশি কমেছে বন্ডের লভ্যাংশও। অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দাম পড়েছে ৬ শতাংশের বেশি। 

ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে চীনা পণ্যের ওপর এ শুল্ক কার্যকর হবে। এ ঘোষণায় ধাতব পণ্যটির স্পটমূল্য ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ১ হাজার ৪৪০ ডলার শূন্য ২ সেন্টে বিক্রি হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রে স্বর্ণের ফিউচারস মার্কেটে পণ্যটির দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৪৫০ ডলার ৯০ সেন্টে।

কানাডাভিত্তিক মূল্যবান ধাতু ক্রয়-বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান কিটকো মেটালসের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক জিম উইকফ জানান, চীনা পণ্যের ওপর ট্রাম্পের ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণায় ডলারের সূচি কমেছে। ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে।

দিনের শুরুতে বৃহস্পতিবার মূল্যবান ধাতুটির দাম কমে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ১ হাজার ৪০০ ডলার ৩১ সেন্টে বিক্রি হয়েছে, যা গত ১৭ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো বেঞ্চমার্কে সুদের হার কমিয়েছে। পাশাপাশি ফেডপ্রধান জেরোম পাওয়েল শিগগিরই সুদহার না কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। এরপর মূল্যবান ধাতুটির দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে যায়।

চীনা পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের বিষয়ে ট্রাম্পের করা টুইটের পরই মার্কিন ট্রেজারিতে বিনিয়োগের বিপরীতে অর্জিত লভ্যাংশের বড় পতন ঘটেছে। ফলে ইউএস ডলারের মূল্য দশমিক ২ শতাংশ কমেছে, যা দিনের শুরুতে সর্বনিম্ন। তবে এ সময় ডলারের সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়। অন্যান্য শক্তিশালী মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মান শক্তিশালী হয়, যা ২০১৭ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ।

রয়টার্সের এক জরিপে দেখে গেছে, নিম্ন সুদহার এবং বিনিয়োগ বাড়ায় আগামী বছর স্বর্ণের বাজারে চাঙ্গা ভাব বজায় থাকবে। এ সময়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ১ হাজার ৪০০ ডলারের উপরে থাকবে।