বাংলাদেশে মোট ৪৬টি নন-লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে সাউথ এশিয়া ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড অন্যতম একটি যা ২১ ডিসেম্বর ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করে। তৃতীয় প্রজন্মের এ কোম্পানী গ্রাহক সেবার মান বৃদ্ধির সাথে সাথে দ্রুততম সময়ে বীমা দাবি পরিশোধে বীমা খাতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আজ কোম্পানির ২৬ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এ দিনটিকে আমরা আনন্দের সাথে উদযাপন করছি।

প্রতিষ্ঠাকালে অত্র কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ছিল ৬ কোটি টাকা। বিভিন্ন চড়াই উৎরাই পেরিয়ে কোম্পানি আজ একটি সুদৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে দেশব্যাপী ৫০টি শাখা অফিস স্থাপন করে কোম্পানির ব্যবসা বৃদ্ধির নিমিত্তে অত্যাধুনিক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারসহ বিভিন্ন কর্মকৌশল গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রতিনিয়তই উত্তরোত্তর আরো উন্নতির জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ইতিমধ্যে বাংলাদেশের স্বনামধন্য বীমা ব্যবস্থাপকদের পদচারণায় সমৃদ্ধশালী হয়েছে এই কোম্পানি। যার ফলে প্রতি বছরই বীমা ব্যবসা প্রসারিত হচ্ছে। ২০২২ সালে কোম্পানির প্রিমিয়াম আয় ছিল নেট ৫৯ দশমিক ৯৯ কোটি টাকা। ২০২৩ সালে একজন পূর্ণাঙ্গ পেশাদার সিইও হিসেবে যোগদানের পর থেকে তার নিরলস প্রচেষ্ঠা ও কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ২০২৩ সালে কোম্পানির প্রিমিয়াম আয় দাঁড়িয়েছে নেট ৬৪ দশমিক ৮৩ কোটি টাকা এবং ২০২৪ সালে কোম্পানির প্রিমিয়াম আয় ৭০ দশমিক ৭৬ কোটি টাকা যা ২০২৫ সালে ৮০ কোটি টাকা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আসন্ন ২০২৬ সালে আমরা শত কোটি টাকা প্রিমিয়াম আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ। সুতরাং কর্তৃপক্ষের নিরবচ্ছিন্ন দিকনির্দেশনা ও সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আগামী দিনগুলোতে কোম্পানির সামগ্রিক ব্যবসা ও আন্ত-উন্নয়ন আরো বেগবান হবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।

সম্প্রতি সাউথ এশিয়া ইনসিওরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এর অনুকূলে উত্তরায় মেট্রোরেল উত্তরা সেন্টার স্টেশনের অতি নিকটে রাজউকের বরাদ্ধকৃত ১২ কাঠা জমির রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। উক্ত জমিতে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করে কোম্পানির আয় বৃদ্ধি করার মহাপরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে কোম্পানির ক্রেডিট রেটিং এএ+, যা কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতার স্বাক্ষর বহন করে। আসন্ন ২০২৬ সালে এর মান উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত হবে বলে আমরা আশা পোষণ করি। সাউথ এশিয়া ইনসিওরেন্স কোম্পানি লিমিটেড গ্লোবাল ইন্টার সার্টিফিকেশন এর নিকট থেকে আইএসও সার্টিফিকেট অর্জন করেছে যা কোম্পানির উচ্চতর মানের নির্দেশক। কোম্পানির গৌরবময় ২৬ বছর পূর্তি বর্ষে যুক্ত হয়েছে এক বিশাল আন্তর্জাতিক সম্মাননা। সম্প্রতি মালদ্বীপে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান বিজনেস পার্টনারশিপ সামিট কর্তৃক আয়োজিত হিউম্যান হারমনি কনফারেন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যাওয়ার্ড-২০২৫ এ নন-লাইফ বীমা খাতে সঠিক বিষয়ে বিশেষ অবদানের জন্য সাউথ এশিয়া ইনসিওরেন্স কোম্পানি লিমিটেডকে সম্মানিত করা হয়েছে।

কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ দেশের সু-প্রতিষ্ঠিত ও স্বনামধন্য ব্যবসায়ীগণের মধ্যে অন্যতম। সমগ্র দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীগণের সাথে অত্র কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক চলমান রয়েছে। অত্র কোম্পানি বীমা ব্যবসার প্রচার ও প্রসারে বদ্ধপরিকর বিধায় গ্রাহক সেবার মান ও দ্রুত বীমা দাবি নিষ্পত্তিসহ সকল কার্যক্রম পূর্বের তুলনায় সুচারুরূপে এবং দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করায় দেশের বীমা সেক্টরে সুনাম বহন করে চলেছে। কোম্পানির বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সিনিয়র এক্সিকিউটিভ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। পেশাগত এবং যোগ্যতাসম্পন্ন জনবলসমূহকে যথেষ্ট যাচাই বাছাই করে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

ফলে দাপ্তরিক কার্যক্রম অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ও সুচারুরূপে পরিপালিত হচ্ছে। অত্র কোম্পানি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সুচিন্তিত দিকনির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পরিপালন করে আসছে। এক কথায় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সকল কমপ্লায়েন্স এবং নিয়মনীতি মেনে একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে, যা আগামী প্রজন্মের জন্য মাইল ফলক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বর্তমান সার্বিক দিক বিবেচনায় আমরা দৃঢ়ভাবে আস্থাশীল ও আশাবাদী যে, সাউথ এশিয়া ইনসিওরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ধাপে ধাপে বীমা ব্যবসায় উন্নতি করে কোম্পানিকে উচ্চতর শিখরে পৌঁছাতে পারবে। এ প্রসঙ্গে আমাদের সম্মানিত শাখা ব্যবস্থাপক, গ্রাহকবৃন্দ, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং শুভানুধ্যায়ীদের জানাই কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক অভিনন্দন।

সর্বশেষ পরিচালনা পর্ষদসহ কোম্পানির সকল স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সুস্বাস্থ্য কামনা করে অত্র কোম্পানির বীমা ব্যবসা সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করার প্রত্যাশা করছি।

মুহাম্মদ নুরুল আলম চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও