ভারতের হাউজিং খাত এক বছর আগের তুলনায় জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগের প্রান্তিকের চেয়ে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। গত পাঁচ প্রান্তিকে এটা সেরা পারফরম্যান্স। খবর গালফ নিউজ।
রিয়েল এস্টেট পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যানারক জানায়, মুম্বাই, নয়াদিল্লি ও বেঙ্গালুুরুসহ ভারতের সাতটি বৃহত্তম শহরে বাড়ি বিক্রি এক বছর আগের থেকে জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। সংখ্যায় এটি ১১ লাখ ২ হাজার ইউনিটের বেশি। এসবের মূল্য ৮-১৮ শতাংশ বেড়েছে। নতুন আবাসিক প্রকল্প চালু হওয়ার ক্ষেত্রে ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এটা ভারতকে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ পূর্বাভাস প্রসার করতে সাহায্য করেছে। এর মাধ্যমে ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতির দেশে পরিণত হতে চলছে। এর বিপরীতে পশ্চিমা অর্থনীতির দেশগুলো উচ্চ সুদের হার ও জ্বালানি তেলের দামের তলায় চাপা পড়ার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে চীনের রিয়েল এস্টেট ব্যবসা ঋণ সংকটে আটকে আছে।
ভারতে হাউজিং ব্যবসার যে উল্লম্ফন, এটা লাখ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করছে। প্রায় ছয় বছরের ঋণ ও মহামারীজনিত মন্দার পরে গত বছর থেকে আবাসন খাত ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। এ বছর তার অগ্রগতি চলছে। এটি অনেক ভারতীয়ের ক্রমবর্ধমান আয়ের প্রতিফলন। একই সঙ্গে জনসংখ্যা বাড়ার ফলে শহরগুলোয় আবাসন ঘাটতি ক্রমে বাড়ছে।
ভারত বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ। গত বছর প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ইউনিটের শহুরে আবাসনের ঘাটতি ছিল। এটি ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হবে।
রেটিং এজেন্সি ফিচের শাখা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়া রেটিং অ্যান্ড রিসার্চের অর্থনীতিবিদ সুনীল সিনহা বলেন, ‘শক্তিশালী হাউজিং খাত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। এটা আগামী কয়েক ত্রৈমাসিকে একই ভূমিকা পালন করবে। ডেভেলপাররা আশা করছেন যে এ উল্লম্ফন আগামী দুই থেকে তিন বছর স্থায়ী হবে।’
একটি শীর্ষস্থানীয় রিয়েল এস্টেট কোম্পানি পার্শ্বনাথ ডেভেলপারসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্জীব জৈন বলেন, ‘হাউজিং খাতে আরো তিন-চার বছর ভালো ব্যবসা করা যেতে পারে। কারণ ভারত আবাসন বৃদ্ধির চক্রের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।’
অ্যানারকের গবেষণা প্রধান প্রশান্ত ঠাকুর বলেন, ‘প্রথমবারের ক্রেতারা বাড়ি বিক্রির প্রধান উৎস। যদিও প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়ি শেষ ব্যবহারকারীদের দ্বারা কেনা হয়েছে। বর্তমান বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে চাহিদা ছিল আরো প্রশস্ত অ্যাপার্টমেন্টের।’
মুম্বাইভিত্তিক গার্ডিয়ান রিয়েল এস্টেট অ্যাডভাইজরির পরিচালক জয়েশ রথোড বলেন, ‘মুম্বাইয়ে প্রায় দুই শতাংশ পয়েন্ট সুদের হার বৃদ্ধি সত্ত্বেও বাড়ির চাহিদা বেড়েছে। আমাদের কোম্পানি এ বছর এখন পর্যন্ত মুম্বাই ও এর উপকণ্ঠে ৫ হাজার ৫০০টির বেশি ফ্ল্যাট বিক্রি করেছে। এটা এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় ৫০ শতাংশেরও বেশি।’
রয়টার্সের একটি জরিপ অনুসারে, ভারতে বাড়ির দাম আগামী বছর অন্য পণ্যের মূল্যস্ফীতির তুলনায় দ্রুত বাড়বে। নবনির্মিত বিলাসবহুল বাসস্থান ধনাঢ্যদের গন্তব্য হয়ে উঠবে।










