গত বছরের ডিসেম্বরে জাপানের পাইকারি মূল্যস্ফীতি ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় স্থিতিশীল। পাইকারি মূল্যস্ফীতি টানা ১২ মাস ধরে কমছে। এ পরিসংখ্যান ব্যাংক অব জাপানের (বিওজে) অবস্থানকে সমর্থন করে। ব্যাংকটির মতে, মূল্যস্ফীতি মূলত বাহ্যিক কারণগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, কাঁচামালের ক্রমবর্ধমান ব্যয় থেকে আসা মূল্যস্ফীতির চাপ সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে কমে যাবে। খবর রয়টার্স।

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ভোক্তা মূল্যস্ফীতি আগামী মাসগুলোয় স্থিতিশীল অবস্থায় থাকবে। এতে বিওজের ওপর থেকে চাপ কমে আসবে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে বিওজে বৃহৎ আর্থিক প্রণোদনা পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করতে পারবে।

পণ্য ও সেবার জন্য কোম্পানিগুলো একে অন্যের কাছ থেকে যে মূল্য নিয়ে থাকে তা পরিমাপ করে করপোরেট গুডস প্রাইস ইনডেক্স (সিজিপিআই)। সিজিপিআইয়ের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস করেছিলেন, ডিসেম্বরে সিজিপিআই দশমিক ৩ শতাংশ কমবে। তবে প্রকৃত সিজিপিআইয়ে নভেম্বর থেকে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। নভেম্বরে সিজিপিআই বেড়েছে দশমিক ৩ শতাংশ। সম্প্রতি বিওজের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে দশমিক ৯ শতাংশ পতনের পর থেকে ফলাফলটি সর্বনিম্ন।

সরকারি ভর্তুকির কারণে পাইকারি মূল্য কিছুটা কমেছে, যা জ্বালানি তেল ও ইউটিলিটি পেমেন্টকে সস্তা করেছে। বিওজের এক কর্মকর্তা জানান, এ ভর্তুকিগুলো পাইকারি মূল্যস্ফীতিকে দশমিক ৯ শতাংশ পয়েন্ট কমিয়েছে।

ইস্পাত, কেমিক্যাল ও কাঠের পণ্যগুলোর মূল্যও ডিসেম্বরে কমেছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, কিছু পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা দুর্বল হওয়ায় কোম্পানিগুলোর কাঁচামালের দাম কমে যাচ্ছে। পাইকারি মূল্য সূচকের আইটেমগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশের মূল্য এক বছর আগের তুলনায় বেড়েছে। এটি মূল্যস্ফীতির চাপকে আরো বাড়িয়েছে।

পাইকারি মূল্যের তথ্য খুচরা মূল্যস্ফীতি পরিমাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বিওজে সম্প্রসারিত মূল্য পরিবর্তন প্রবণতার প্রতি লক্ষ রাখছে। অতি শিথিল মুদ্রানীতি থেকে বেরিয়ে আসার সময় নির্ধারণে পাইকারি মূল্যের তথ্যগুলো বিবেচনায় নেবে বিওজে।

আগামী সপ্তাহে সুদহার পর্যালোচনার বৈঠকে বিওজে সম্ভবত ২০২৪ অর্থবছরের জন্য কোর কনজিউমার মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস কমাবে। তবে মূল্যস্ফীতির চাপ আগামী মাসগুলোয় তাদের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি থাকবে বলে আশা করছেন নীতিনির্ধারকরা। এদিকে বিওজের গভর্নর কাজুও উয়েদা সম্প্রতি মুদ্রানীতিকে অতি শিথিল রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।