চলতি বছর অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন ২-৩ শতাংশ কমিয়ে আনার ঘোষণা দিতে পারে চীন। শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, চলতি মাসে বার্ষিক অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ দুই-তিন কোটি টন পর্যন্ত কমিয়ে আনার ঘোষণা দিতে পারে দেশটি। খবর এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইট।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইস্পাতের বার্ষিক উৎপাদনে হ্রাস দেশটির বাজারে শিল্প ধাতুটির জন্য ঊর্ধ্বমুখী দাম তৈরি হওয়ার খুব বেশি সম্ভাবনা নেই। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ডিবেট স্ট্রাপড সম্পত্তি খাতের কারণে বার্ষিক ইস্পাতের চাহিদা কমে আসায় উৎপাদন হ্রাসের প্রভাব শক্তিশালী হবে না। এ চাহিদা আরো দ্রুত কমে আসার সম্ভাবনাও দেখছেন অনেকে। কিছু সূত্র জানায়, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে চীনের ইস্পাত বাজার ওঠানামা করতে পারে। তবে তা প্রথমার্ধের তুলনায় অনেকটাই সংকুচিত থাকবে বলেও মনে করছে সূত্রগুলো।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে চীনে ইস্পাতের বার্ষিক চাহিদা অন্তত ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসতে পারে। কিছু সূত্র এমনটা জানায় যে মজুদাগারগুলোয় থাকা ইস্পাতের পরিমাণ কমিয়ে আনা ও শিল্প ধাতুটির দামকে ঊর্ধ্বমুখী করে তোলার জন্য পাঁচ কোটি টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন কমাতে পারে চীন।
অপর একটি সূত্র জানায়, বার্ষিক অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন প্রায় পাঁচ কোটি টন কমিয়ে আনা চীনের জন্য অনেকটাই অসম্ভব। এমনটা করা হলে চীনের বেকারত্বের হার অনেকটা বেড়ে যাবে এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির ওপর ব্যাপক নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করবে।
যদি চীন তার বার্ষিক ইস্পাত উৎপাদনের হার দুই-তিন কোটি টন কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে, তাহলে দেশটির জুন-ডিসেম্বর দৈনিক ইস্পাত উৎপাদনের হার কমে আসবে ২৬ লাখ ৬৫ হাজার টন থেকে ২৭ লাখ ১১ হাজার টন পর্যন্ত, যা মে মাসের দৈনিক উৎপাদনের তুলনায় ১৩ থেকে ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত কম। উৎপাদন উল্লিখিত পরিমাণ কমিয়ে আনলেও তার পরিমাণ ২০২১ সালের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ৩ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত বেশি থাকবে।
বাজারের কিছু সূত্র জানায়, এরই মধ্যে জুনে চীনের ইস্পাত উৎপাদন কমিয়ে আনা হয়েছে। জুলাইয়ে উৎপাদন হ্রাসের হার আরো ত্বরান্বিত হবে। এরই মধ্যে অনেক ইস্পাত কারখানা লোকসানের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। কারখানা ও স্পট মার্কেটের মজুদাগারগুলো এরই মধ্যে অনেকটা পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্রমতে, জুলাইয়ে উৎপাদন কমিয়ে আনার ফলে ইস্পাতের দামে পরবর্তী হ্রাস কিছুটা কমে আসতে পারে। তবে ধাতুটির দুর্বল চাহিদার কারণে নিম্নমুখী দাম মোকাবেলা করার প্রবণতা অনেকটাই স্থিরগতিতে অগ্রসর হবে।










