বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) অবদানে দেশে বীমা খাত এগিয়ে যাচ্ছে। বীমার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বেড়েছে। বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের তিন যুগপূর্তিতে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. কাজিম উদ্দিন। কথা বলেছেন বীমা দাবি পরিশোধ, বীমা শিল্পের উন্নয়ন ও সমস্যা নিয়ে। জানিয়েছেন বাংলাদেশ বীমা খাত নিয়ে তার স্বপ্ন ও আশার কথা। 

বিআইএর তিন যুগপূর্তিতে আপনার অনুভূতি কী?

অনুভূতি চমৎকার, বিআইএর অবদানের কারণে বাংলাদেশে বীমা খাত এগিয়ে যাচ্ছে। বীমার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বেড়েছে।

গত তিন যুগে বিআইএর অবদানকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

 বীমা খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে বিআইএ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। বিআইএ গঠনের পর থেকে সংগঠনটির বীমা শিল্পের উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে। ইতঃপূর্বে যারা সংগঠনটির নেতৃত্বে ছিলেন তারা সবাই বীমা শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বিশেষ করে বিআইএর বর্তমান প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেনের বিচক্ষণ ও দূরদর্শী চিন্তাচেতনায় বাংলাদেশের বীমা খাত অনেক এগিয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে বিআইএ অবদান রেখেছে। বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফ যখন অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ায় তখন বিআইএর প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেনের নেতৃত্বে বিআইএর নির্বাহী কমিটি প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে পদ্মা সেতু নির্মাণে বীমা শিল্পের লাইফ ফান্ড থেকে বিনিয়োগ করার প্রস্তাব পেশ করেন। যদিও পরে পদ্মা সেতু নির্মাণে বীমা শিল্পের লাইফ ফান্ড থেকে বিনিয়োগ করার প্রয়োজন হয়নি, কিন্তু বিআইএর বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীকে অনেক উৎসাহ জুুগিয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে বীমা শিল্পের প্রতি প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দৃষ্টিপাত করেন। বিআইএর প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেনের অনুসন্ধানী দৃষ্টির ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বীমা শিল্পে সম্পৃক্ততা ও যোগদানের তারিখ উদঘাটিত হয়। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বীমা শিল্পে যোগদানের তারিখ ১ মার্চকে জাতীয় বীমা দিবস ঘোষণা করেন।

বিগত দিনে ১৯৩৮ সালের বীমা আইনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বীমা অধিদফতরের মাধ্যমে বীমা কোম্পানিগুলো পরিচালিত হতো। বিআইএর পদক্ষেপের ফলে সরকার বীমা আইন যুগোপযোগী করে ২০১০ আইডিআরএ গঠন করে। আইডিআরএ গঠন বিআইএর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। আইডিআরএ গঠনের ফলে বীমা কোম্পানিগুলোতে জবাবদিহিতাসহ শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে।

বিআইএর ৩৬ বছরে প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রাপ্তি কতটুকু ?

আইডিআরএ গঠন, নতুন বীমা আইন প্রবর্তন ও জাতীয় বীমা দিবসসহ বীমা শিল্পের সার্বিক উন্নয়নে বিআইএ জড়িত। বিআইএর প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেনের প্রচেষ্টায় জাতীয় বীমা দিবসে কোম্পানিগুলোকে জাতীয় পুরস্কার প্রদান বিআইএর অন্যতম অবদান।

বীমা সেক্টরকে আধুনিকায়নে বিআইএ কী কী ভূমিকা রাখতে পারে ?

 বীমা সেক্টরকে আধুনিকায়নে বিআইএ ভবিষ্যতে আরো কিছু কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে আইডিআরএ ও কোম্পানিগুলোতে সব ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার, ভালো মানের ব্যবসা এবং আরো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে বিআইএ পদক্ষেপ নিতে পারে। বিশাল জনগোষ্ঠীর এই দেশে লাইফ বীমা গ্রাহকের হার খুবই নগণ্য। সরকারি কর্মকৌশলের মাধ্যমে লাইফ বীমা গ্রহণ বাধ্যতামূলককরণে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে পারে বিআইএ।

আগামীতে বীমা খাতকে কোথায় দেখতে চান?

বীমা খাত নিয়ে আমি অনেক আশাবাদী। একটা সময় বীমা পেশা ছিল অনেক অবহেলিত। বীমা এখন আর আগের জায়গায় নেই। মানুষ বীমা সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে। জাতীয়ভাবে পালিত হচ্ছে বীমা দিবস। বাংলাদেশ ব্যাংক, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং বিআইএর যৌথ উদ্যোগে সম্প্রতি ব্যাংকাসুরেন্স প্রবর্তন করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো বীমা কোম্পানির করপোরেট এজেন্ট হিসেবে ব্যাংকাসুরেন্স বিপণন করবে। ব্যাংকের মাধ্যমে বীমা পলিসি বিপণনের ফলে গ্রাহকের আস্থা সঙ্কট দূর হবে এবং বীমা ব্যবসা অনেক প্রসারিত হবে। ব্যাংকাসুরেন্সের মাধ্যমে বীমা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে। উন্নত দেশগুলোতে যেভাবে বীমা খাত এগিয়ে রয়েছে আগামীতে বাংলাদেশের বীমা খাত সেভাবে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের জিডিপিতে বীমা আরো বেশি অবদান রাখবে এ আমার প্রত্যাশা।