২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমে আটা-ময়দার বৈশ্বিক বাণিজ্য কমার পূর্বাভাস দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইন কাউন্সিল (আইজিসি)। বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১ কোটি ৩৮ লাখ টনে। এর আগে ২০২০-২১ বিপণন মৌসুমে কভিড-১৯ মহামারীর ধাক্কায় বাণিজ্যে এমন ধস নেমেছিল।

আন্তর্জাতিক বাজারে গমের সরবরাহ সংকট ও ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে আটা-ময়দার বাজার অস্থিতিশীল। এমন পরিস্থিতিতে আমদানিকারক দেশগুলো পণ্যটির সরবরাহ নিশ্চিতে হিমশিম খাচ্ছে।

আইজিসি বলছে, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোয় আমদানি লক্ষণীয় মাত্রায় কমতে পারে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য নিম্নমুখী হওয়ার পেছনে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা রাখবে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, গত মৌসুমের তুলনায় এবার তিন লাখ টন কম আটা-ময়দার বাণিজ্য হবে। এছাড়া আইজিসির অক্টোবরে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় কমবে দুই লাখ টন।

সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগে ২০১৩-১৪ সালে আটা-ময়দার বৈশ্বিক বাণিজ্য রেকর্ড সর্বনিম্নে নেমেছিল। ওই সময় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৩২ লাখ টন।

প্রতিবেদনে সাব-সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলের বাণিজ্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আইজিসি জানায়, কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং গমজাত পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দাম আটা-ময়দার ভোক্তা চাহিদায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হালনাগাদকৃত বাণিজ্য পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলোয় আটা-ময়দার সরবরাহ প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কমেছে। ২০২২-২৩ মৌসুমের জন্য অঞ্চলটিতে সরবরাহের প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৮ লাখ টন, যা এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।

দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে আর্জেন্টিনা সবচেয়ে বৃহৎ আটা-ময়দা সরবরাহকারী দেশ। কিন্তু ভয়াবহ খরায় দেশটিতে গমের আবাদ ও উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তলানিতে নেমেছে ময়দা রফতানিও। আইজিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২২-২৩ মৌসুমে রফতানি কমে চার লাখ টনে নামতে পারে, গত বছর যা ছিল ৭ লাখ ৪১ হাজার টন।

আইজিসি বলছে, এবার বলিভিয়া ও ব্রাজিলে আমদানি গত মৌসুমের তুলনায় অনেক কমতে পারে। এমনকি দেশ দুটিতে সরবরাহ যথাক্রমে আট ও নয় বছরের সর্বনিম্নে নামার আশঙ্কা রয়েছে।

এ মৌসুমে ইরাক বিশ্বের শীর্ষ আটা-ময়দা আমদানিকারক দেশের তকমা ধরে রাখবে। দেশটির আমদানি দাঁড়াতে পারে ২৬ লাখ টনে, যা এক বছর আগে ছিল ২১ লাখ টন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে আফগানিস্তান। দেশটি ১৮ লাখ টন আমদানি করতে পারে, আগের বছর যা ছিল ১৭ লাখ টন।

আবারো রফতানিতে শীর্ষে থাকবে তুরস্ক। চলতি বছর দেশটির আটা-ময়দা রফতানি ৪৯ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে, যা অক্টোবরে দেয়া পূর্বাভাসের চেয়ে কিছুটা এবং গত মৌসুমের তুলনায় পাঁচ লাখ টন বেশি। দ্বিতীয় শীর্ষে থাকা কাজাখস্তানের রফতানি দাঁড়াতে পারে ২৪ লাখ টনে, যা এক বছর আগের তুলনায় ৯০ হাজার টন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।