চলতি অর্থবছরে ভারতের কাটা ও মসৃণ হীরা বিক্রি পাঁচ বছরের সর্বনিম্নে নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আগের বছরের চেয়ে বিক্রি ২৫-৩০ শতাংশ কমে যেতে পারে। এ থেকে দেশটির আয় হবে ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় মূল্যবান ধাতুটির বৈশ্বিক চাহিদা নিম্নমুখী। এ কারণেই বিক্রির পরিমাণ কমতির দিকে। হীরা কাটা ও মসৃণ করার দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র ভারত। বৈশ্বিক মসৃণ হীরা ব্যবহারের ৯০-৯৫ শতাংশই আসে দেশটি থেকে। এরপর চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান।
কিন্তু এ দুই দেশের হীরা খাত চ্যালেঞ্জের মুখে। অর্থনীতির গতি ধীর হয়ে পড়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মসৃণকরণ ও রফতানি কার্যক্রমে। এছাড়া ল্যাবে তৈরি কৃত্রিম হীরাও চাহিদা কমে যাওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে। আগামী অর্থবছরও অবনমনের মধ্যে থাকবে এ দুই দেশ।
এদিকে বিকল্প অপরিহার্য ব্যয় ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে কাটা ও মৃসণ হীরা রফতানিতে। এ সময় রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩০৪ ডলারে নেমে যায়।
কেয়ারএজ রেটিংস জানায়, জি৭ভুক্ত দেশগুলোর রুশ হীরায় নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এবং পরিশোধনাগারগুলোয় লজিস্টিকস ও কার্যক্রমসংক্রান্ত জটিলতা রফতানি কমার পেছনে বড় ভূমিকা পালন করবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক হীরার দাম কমে প্রায় ১৪ বছরের সর্বনিম্নে। প্রধান বাজারগুলোয় মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা কমছে উল্লেখযোগ্য হারে। এতে বাড়ছে মজুদ। ফলে পলিশিং কারখানাগুলো কম দামেই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ধাতু বিক্রি করছে।
প্রাকৃতিক হীরার বৈশ্বিক দামে এমন নিম্নমুখী প্রবণতার পেছনে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় বিশ্বের শীর্ষ এ দুই বাজারে দুর্বল হয়ে পড়েছে চাহিদা। বিপরীতে এসব দেশের গ্রাহকের কাছে বাড়ছে কৃত্রিম হীরার গ্রহণযোগ্যতা।










