তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ২৩ শতাংশ আয় কমেছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পেট্রোলিয়াম ও গ্যাস কোম্পানি আরামকোর। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস ও উৎপাদন কমানোর কারণে এ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখেছে কোম্পানিটি। খবর দ্য জর্ডান টাইমস।
সৌদি স্টক এক্সচেঞ্জে দেয়া এক বিবৃতিতে আরামকো জানায়, তাদের আয় গত বছরের ৪ হাজার ২৪৩ কোটি ডলার থেকে কমে ৩ হাজার ২৫৮ কোটি ডলার হয়েছে। এক্ষেত্রে স্বল্প অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ও বিক্রির পরিমাণ প্রভাব রেখেছে।
২০২২ সালের তুলনায় আরামকোর নিট মুনাফা চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ১৯ দশমিক ২৫ শতাংশ ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ৩৮ শতাংশ কমেছে।
বিশ্বের অন্যতম ধনী জ্বালানি কোম্পানি আরামকোকে বলা হয় সৌদি অর্থনীতির রত্ন। দেশটির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন ২০৩০ অর্জনে চলমান ব্যাপক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারে রাজস্বের প্রধান উৎসও এটি।
বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশ সৌদি আরব। আর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেল কোম্পানি আরামকোর ৯০ শতাংশ শেয়ারের মালিক সৌদি সরকার।
আরামকো এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০২২ সালে তারা রেকর্ড ১৬ হাজার ১১০ কোটি ডলার আয় করেছে, যা গত এক দশকে প্রথমবারের মতো দেশের বার্ষিক বাজেটে উদ্বৃত্তি এনে দিয়েছে। সৌদি আরব বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৯০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে, যা দেশটির দৈনিক সক্ষমতা ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল থেকে অনেক কম।
রিয়াদভিত্তিক সংস্থা জাদওয়া ইনভেস্টমেন্ট অক্টোবরের শেষের দিকে এক প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দিয়েছে, এ বছর তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৮৫ ডলারে নেমে আসতে পারে। এর আগে ২০২২ সালে ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করলে প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক তেলের বাজারে। ওই সময় জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ব্যারেলপ্রতি মূল্য দাঁড়ায় ১৩০ ডলারের বেশি।










