খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্য বিশ্বব্যাপী কৃষকদের বেশি পরিমাণে দানাদার শস্য ও তেলবীজ আবাদে আগ্রহী করে তুলেছে। তা সত্ত্বেও ২০২৪ সালে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশগুলোয় এল নিনোর প্রভাব, রফতানি নিষেধাজ্ঞা ও বায়োডিজেলের উচ্চ চাহিদা এতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করতে পারে। খবর রয়টার্স।
বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী গম, ভুট্টা ও সয়াবিনের দাম গত কয়েক বছর ধরে ঊর্ধ্বমুখী। কৃষ্ণ সাগর দিয়ে রফতানি সমস্যা শিথিল হয়ে আসা ও বৈশ্বিক মন্দার উদ্বেগে এ বছর খাদ্যশস্যের গড় দাম বিগত বছরগুলোর তুলনায় কিছুটা কমতির দিকে। তবে সরবরাহ ঘাটতি ও খাদ্য মূল্যস্ফীতির কারণে নতুন বছরে এসব পণ্যের বাজার নাজুক হয়ে পড়তে পারে।
সিডনির কৃষি ব্রোকারেজ আইখন কমোডিটিসের উপদেষ্টা পরিষেবার পরিচালক ওলে হাউ বলেছেন, ‘২০২৩ সালে শীর্ষ উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোয় ভালো ফলন হওয়ায় সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে আমরা এখনো ঘাটতির হুমকি থেকে মুক্ত নই।’
ওলে হাউ বলেন, ‘আমাদের কাছে অন্তত এপ্রিল-মে পর্যন্ত এল নিনোর পূর্বাভাস রয়েছে। ব্রাজিলে প্রায় নিশ্চিতভাবেই এ বছর কম ভুট্টা উৎপাদন হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চীনের রেকর্ড পরিমাণ গম ও ভুট্টা আমদানি আমাদের অবাক করেছে।’
এল নিনোর প্রভাবে এরই মধ্যে এশিয়ার বৃহৎ অঞ্চলে শুষ্কতা ছড়িয়ে পড়েছে এবং ২০২৪ সালের প্রথমার্ধেও শুষ্কতা অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে শীর্ষ কৃষিপণ্য রফতানিকারক ও আমদানিকারক দেশগুলোয় চাল, গম, পাম অয়েলসহ অন্যান্য কৃষিপণ্যের সরবরাহ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
ব্যবসায়ী ও খাতসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, শুষ্ক অবস্থা ও জলাশয় শুকিয়ে আসায় ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে এশিয়ায় ধানের ফলন কমে যেতে পারে।
চলতি বছর এল নিনোর কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক চালের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চাল সরবরাহকারী ভারত এরই মধ্যে আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ফলে ২০২৩ সালে চালের দাম ১৫ বছরের সর্বোচ্চে উঠেছে। এশিয়ার প্রধান চাল রফতানিকারক বাজারগুলোয় খাদ্যশস্যটির দাম ৪০-৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
এমনকি ভারতের অন্যান্য কৃষিপণ্যের উৎপাদনও হুমকির মুখে। শুষ্কতার কারণে দেশটির পরবর্তী গমের ফলন কমে যেতে পারে। এরই মধ্যে ভারতে গমের মজুদ সাত বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে। বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ গম ব্যবহারকারী দেশটিতে অভ্যন্তরীণ ফল কমে গেলে ২০২৪ সালে আমদানির পথে হাঁটতে হতে পারে। গত ছয় বছরে এটিই হবে ভারতের প্রথম গম আমদানির রেকর্ড।
বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ গম রফতানিকারক দেশ অস্ট্রেলিয়া। আগামী এপ্রিলে দেশটির কৃষকরা শুষ্ক মাটিতে বীজ বপন করতে বাধ্য হতে পারেন। এতে আশঙ্কাজনক হারে ফলন কমে যেতে পারে দেশটির। এমনকি তীব্র তাপমাত্রার কারণে বছরে তিন ফসল চাষের স্বপ্ন ভেস্তে যেতে পারে। ফলে চীন, ইন্দোনেশিয়ার মতো গম আমদানিকারক দেশগুলো উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলের রফতানিকারক দেশগুলোয় সরবরাহ চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে।










