বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ‘বিশ্বের উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোতে ৫০ শতাংশের বেশি টাকা পুঁজিবাজার থেকে নেয়া হয়। কিন্তু আমরা এখনো সে অবস্থানে যেতে পারিনি। দেশে এখনো ব্যাংকঋণের প্রতি বেশি ঝুঁকছেন ব্যবসায়ীরা। যার জন্য বেশকিছু সমস্যাও হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জোগান পুঁজিবাজার থেকেই হওয়া উচিত। যদি ৫০ শতাংশ বিনিয়োগও পুঁজিবাজারের মাধ্যমে আসে তাহলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের অভাবনীয় উন্নয়ন সম্ভব।’

রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনে আয়োজিত তিনদিনব্যাপী ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপো-২০২৩-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গতকাল প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্য শেষে তিনি এ মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

পোশাক খাতের একসময়ের দুরবস্থার প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, ‘রানা প্লাজার ধসের পর এ সেক্টরের উদ্যোক্তারা অনেকদিন খুব হতাশার মধ্যে ছিল। বিদেশী বায়াররা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিল। সে অবস্থান থেকে আমরা উত্তরণ হতে পেরেছি। গত বছর আমরা ৫১ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম, বছর শেষে সেটা ৬১ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের জন্য আমরা ৬৭ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি।’ এভাবে পুঁজিবাজারের বিপদগুলোও দূরীভূত হয়ে একসময় সম্পদে পরিণত হবে বলে মনে করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ‘অনেক দেশ শূন্য থেকে শুরু করে, কিন্তু আমরা মাইনাস দিয়ে শুরু করেছিলাম। যুদ্ধের ধ্বংসে আমরা মাইনাসে ছিলাম। আমরা গত ১০-১২ বছরে অভাবনীয়ভাবে উন্নতি করেছি। তবে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে গত এক বছর ধরে আমরা চ্যালেঞ্জিং অবস্থানে আছি। যদিও আমাদের সরকারের দূরদর্শিতায় এখন আমরা অনেকটাই উত্তরণ হতে পেরেছি।’

অর্থসূচক সম্পাদক জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান, সিএসইর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহীম, বিএপিএলসির সভাপতি আনিস উদ দৌলা, বিএমবিএর সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান, ডিবিএর সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিএমএসএফের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান ও বিআইসিএমের নির্বাহী প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. মাহমুদা আক্তার।