চীন চার বছরের মধ্যে সয়াবিন উৎপাদন ৪০ শতাংশ বাড়াতে চায়। শস্যটির দেশীয় চাহিদার বড় একটি অংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে চীন। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে নানামুখী সংকট ও ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে দেশটি উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। খবর সিটিজিএন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীনের বাজারে চাল ও গমের সরবরাহ এবং চাহিদা তুলনামূলক স্থিতিশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ। কিন্তু সয়াবিনের সরবরাহ ও চাহিদায় বড় ব্যবধান রয়েছে। দেশটি যে পরিমাণ সয়াবিন ব্যবহার করে তার ৮০ শতাংশই আসে আমদানি থেকে।

চীন সরকার ২০১৮ সালে ভুট্টায় ভর্তুকি কমিয়ে সয়াবিনে ভর্তুকি বাড়িয়ে দেয়। কিছু প্রদেশে ভুট্টার প্রতি হেক্টরের তুলনায় সয়াবিনে ৭০০ ডলার বেশি প্রণোদনা দেয়া হতে পারে। তবে কোনো কোনো বিশ্লেষক মনে করছেন, শুধু অর্থ সহায়তা দিয়েই সয়াবিন উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়। কৃষকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি, যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রযুক্তির ব্যবহারসহ ব্যাপক কর্মযজ্ঞ প্রয়োজন।

এদিকে চলতি বছর দেশটির সয়াবিন আমদানিও কমতে পারে। আমদানির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৯ কোটি ৮ লাখ টনে, যা আগের প্রাক্কলনের তুলনায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ কম। এর আগে ৯ কোটি ৩০ লাখ টন সয়াবিন আমদানির প্রাক্কলন করা হয়েছিল।

অন্যদিকে মে-ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশটির আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ১ শতাংশ কমতে পারে। আমদানির পরিমাণ দাঁড়াবে ৬ কোটি ২৪ লাখ টনে।

চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমসের তথ্য বলছে, জানুয়ারি-এপ্রিল পর্যন্ত চীন ২ কোটি ৮৩ লাখ ৭০ হাজার টন সয়াবিন আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি কমেছে ১ শতাংশ।

চীনের ব্যবসায়ীরা জানান, বছরওয়ারি আমদানি চাহিদার পরিমাণ ধরা হয়েছে নয় কোটি টন। আমদানিতে চলমান শ্লথগতি আগামী মাসগুলোয়ও অব্যাহত থাকবে।