জুলাই-সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভারতের ভোক্তা পণ্য খাত ৯ শতাংশ বেড়েছে। নিলসেন আইকিউর নতুন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এ প্রবৃদ্ধি প্রাথমিকভাবে গ্রামীণ অর্থনীতির শক্তিশালী অবস্থানকে ইঙ্গিত করে। খবর রয়টার্স। 

গ্রামীণ বাজারগুলো দ্বিতীয় প্রান্তিকে ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করেছে। এছাড়া বিক্রি জুন প্রান্তিকের ৪ শতাংশ থেকে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। গত চার প্রান্তিকে গ্রামীণ বাজারের পরিমাণ প্রায় ২ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ কমেছিল। তাই এ ইতিবাচক পরিবর্তন গ্রামীণ ব্যয়ের পুনরুত্থানের প্রমাণ।

দুধ, আটার মতো দৈনন্দিন আইটেমগুলোর উচ্চমূল্যের কারণে ভারতের গ্রামীণ অঞ্চল চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় ও বিচক্ষণ উভয় পণ্যগুলোয় ব্যয় কমেছে। এনআইকিউ ইন্ডিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর সতীশ পিল্লাই বলেন, ‘‌ধীর গতির দাম বৃদ্ধি, বেকারত্ব হ্রাস ও রান্নার গ্যাসের দাম কমানোয় ভোক্তাদের ব্যয় প্রভাবিত হয়েছে।

জুলাইয়ে ভারতের খুচরা মূল্যস্ফীতি ১৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তবে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে তা কমেছিল। সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমির তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে বেকারত্বের হার ৭ দশমিক ১ শতাংশে কমে এলেও অক্টোবরে তা আবারো ১০ শতাংশে উন্নীত হয়।

এনআইকিউ ইন্ডিয়ার প্রধান রুজভেল্ট ডিসুজা জানান, গ্রামীণ ভোক্তারা ব্যক্তিগত যত্ন ও হোম কেয়ারে বেশি ব্যয় করছেন। এটি প্রমাণ দেয়, তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় জিনিসের বাইরেও জিনিসপত্র কেনার সামর্থ্য তৈরি হয়েছে। বিস্কুট, চা, নুডলস ও কফির মতো পণ্যগুলোর বিক্রি বেড়েছে, যা আগের পাঁচটি প্রান্তিকে কম ছিল।

শহরাঞ্চলে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। আধুনিক ট্রেড আউটলেটগুলো দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। ছোট দোকানগুলো ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি দেখেছে। এনআইকিউ ইন্ডিয়ার প্রধান রুজভেল্ট ডিসুজা জানান, ভারতজুড়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি করেছে উৎসবের মৌসুম। গ্রামীণ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ভোক্তা পণ্যগুলোর জন্য ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি তৈরিতে সহায়তা করেছে। যদি গ্রামে বিক্রির পরিমাণ একইভাবে অব্যাহত থাকে তবে খাতটি সামনে আরো প্রবৃদ্ধি দেখবে।