কয়েক মাস ধরে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য কিনছে চীন। দেশটির আগ্রাসী এ ক্রয়প্রবণতা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি করেছে। তারা মনে করছে, চীন মূলত ভারত থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় করে তাদের মজুদ বাড়াচ্ছে। এতে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যের সংকট দেখা দিতে পারে। অন্যান্য পণ্যের মতো তেলবীজ বিশেষ করে ক্যাস্টর বীজ আমদানির ক্ষেত্রেও চীনের এমন আগ্রাসী ক্রয় মনোভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। এটি হলে ভারতের ভোজ্যতেলের বাজারে সংকট দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা করছেন দেশটির ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় ক্যাস্টর বীজ ক্রয়ে চীনের আগ্রাসী মনোভাব ঠেকাতে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। খবর ইকোনমিক টাইমস।
ভারতের শীর্ষ একটি ব্যবসায়ী সংগঠন সলভেন্ট এক্সট্র্যাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, তাদের দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ ক্যাস্টর বীজ আমদানির পরিকল্পনা করছে চীন। এতে বিচলিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় ভোজ্যতেল শিল্পের ব্যবসায়ীরা। কেননা এতে স্থানীয় ভোজ্যতেলের ব্যবসায় কাঁচামালের ঘাটতি পড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পিযুষ গয়ালকে লেখা এক চিঠিতে অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট অতুল চতুর্বেদী বলেন, কয়েক মাস ধরে রাষ্ট্রীয় মজুদ বাড়ানোর লক্ষ্যে আগ্রাসীভাবে ভোগ্যপণ্য কিনছে চীন। আমরা জানতে পেরেছি, তারা ভারত থেকে বিশাল পরিমাণ ক্যাস্টর বীজ কেনার পরিকল্পনা করছে। ঐতিহ্যগতভাবেই ভারত থেকে ক্যাস্টর অয়েল ও সংশ্লিষ্ট পণ্য কিনে থাকে তারা। কিন্তু নতুন এ আগ্রহটা আমাদের স্থানীয় শিল্পের জন্য বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। এতে কাঁচামালের সংকট তৈরি হতে পারে।
বিশ্বে ক্যাস্টর অয়েল ও এর থেকে উৎপাদিত পণ্যের যত চাহিদা রয়েছে, তার ৮৫-৯০ শতাংশ পূরণ করে থাকে ভারত। সংগঠনটি বলছে, ভারতের আছে খুবই উন্নত প্রক্রিয়াকরণ শিল্প রয়েছে। ক্যাস্টর অয়েল রফতানি করে আমরা বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি রুপি রাজস্ব আহরণ করে থাকি। এ প্রক্রিয়াকরণ শিল্পটি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে। চীন যদি সত্যিই বেপরোয়াভাবে ক্যাস্টর বীজ কেনা শুরু করে, তবে আমাদের প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ধুঁকতে থাকবে এবং এটা জাতীয় স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এ কথা বলাবাহুল্য, প্রক্রিয়াকরণের কাজটি ভারতের মধ্যেই রাখাটা অগ্রাধিকার দেয়া উচিত আমাদের। তাই ক্যাস্টর বীজের মতো কাঁচামাল রফতানিকেও নিরুৎসাহিত করা উচিত।
বর্তমান রফতানি নীতিতে অবশ্য ক্যাস্টর বীজসহ সব ধরনের তেলবীজ স্বাধীনভাবেই রফতানিযোগ্য। চতুর্বেদী বলেন, এ নীতির সুবিধা আদায় করে নিয়ে চীন ভারত থেকে ক্যাস্টর বীজ কিনবে এবং তাদের দেশে নিয়ে প্রক্রিয়াজাত করবে। এটা দেশজ প্রক্রিয়াকরণ শিল্পকে রাজস্ব আহরণ থেকে বঞ্চিত করবে এবং রফতানি বাজারের বড় ক্ষতিসাধন করবে। তাই কাঁচামাল রফতানিকে নিরুৎসাহিত করা এখন বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং পণ্য প্রক্রিয়াকরণের মধ্য দিয়ে ভারত যেন বাড়তি রাজস্ব পায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
বাণিজ্যিক সংগঠনটি মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে যেন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ক্যাস্টর বীজ রফতানিকে নিরুৎসাহিত করা হয়। যেমন ক্যাস্টর বীজসহ অন্যান্য তেলবীজের ন্যূনতম রফতানিমূল্য নির্ধারণ কিংবা রফতানি শুল্ক আরোপ।
ক্যাস্টর অয়েল বাংলায় রেড়ির তেল নামে পরিচিত। ভারতে বলা হয় আরান্ডিকা তেল। এ তেল ত্বক ও চুলের পরিচর্যায় বিশেষ উপকারী। ক্যাস্টর অয়েল চুলের গোড়া শক্ত করে এবং নতুন চুল গজাতে বিশেষ সহায়তা করে। এ তেলে রয়েছে ওমেগা থ্রি, ওমেগা সিক্স ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভিটামিন ‘ই’। এর ভেতর রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি এন্টিব্যাক্টোরিয়াল প্রপার্টিস। এ উপাদান প্রদাহ হ্রাস করে, জীবাণু সংক্রমণ কমায়। এটি একটি প্রাকৃতিক গুণাগুণ সম্পন্ন ভেষজ তেল।
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ক্যাস্টর অয়েল উৎপাদন করে ভারত। উৎপাদনে তাদের পরই রয়েছে চীন, ব্রাজিল, ইথিওপিয়া, প্যারাগুয়ে, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফিলিপাইন ও অ্যাঙ্গোলা।










