চীনে গত বছর ফ্ল্যাট বিক্রির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল তা পূরণ হয়নি। চলতি বছরও সংকটে থাকবে বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনীতির দেশটির আবাসন খাত। ২০২৪ সালে খাতটি নতুন ঝুঁকির মুখোমুখি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। খবর রয়টার্স।
২০২১ সালের ঋণখেলাপির তালিকায় রয়েছে চীনের বৃহৎ আবাসন প্রতিষ্ঠান কান্ট্রি গার্ডেন। গত বছরের অক্টোবরে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের ঋণখেলাপি হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কারণ টানা কয়েক বছরের লোকসান। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বার্ষিক সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইয়াং হুইয়ান প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রপার্টি খাতের মার্কেট গত বছরে পুনরুদ্ধার হয়নি বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে দেশের প্রপার্টি খাত যে হুমকির মধ্যে পড়েছে তা কল্পনার চেয়েও অধিক গুরুতর বলে মনে করেন কান্ট্রি গার্ডেনের প্রেসিডেন্ট মো বিন। সম্মেলনে সঠিক ও নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। এক্ষেত্রে চলতি বছরে দেশটিতে খালি পড়ে থাকা ফ্ল্যাট বিক্রিকে প্রাধান্য দেয়ার আহ্বান জানান তারা।
আগের বছরে দেশটিতে ফ্ল্যাট বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ছয় লাখ। তবে সে লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলো। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে আরো কম। কান্ট্রি গার্ডেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বছরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৮০ হাজার ফ্ল্যাট বিক্রির, যা গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ কম।
কভিড-১৯ মহামারী-পরবর্তী ২০২১ সাল থেকে চীনের অর্থনীতির অন্যতম ধারক প্রপার্টি খাতে শুরু হয় মন্দা ভাব। সম্প্রতি হওয়া চীনা রিয়েল স্টেট জায়ান্ট এভারগ্রান্ডের ঋণখেলাপির ঘটনার পাশাপাশি বেশকিছু সংকটের মুখোমুখি দেশটির আবাসন খাত। কান্ট্রি গার্ডেনের মতো বৃহৎ কোম্পানিগুলোও বর্তমানে নড়বড়ে। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, প্রপার্টি খাতে দেশটির জনসংখ্যার তুলনায় অধিক বিনিয়োগের ফলে তৈরি হচ্ছে নতুন ঝুঁকি।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইয়াং হুইয়ান গত বছরের মার্চে চুক্তিবদ্ধ ফার্ম ছাড়া অন্যান্য অঙ্গপ্রতিষ্ঠানে তাদের বিনিয়োগ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন। রোবট বাণিজ্যে প্রতিষ্ঠানটির প্রান্তিক ব্যয়ে লাগাম টানতেই এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।
চীনের এ প্রতিষ্ঠান এতদিন ২৮ ধরনের রোবট এবং ২ হাজার ৮৯০টি প্রপার্টি তাদের গ্রাহকের কাছে হস্তান্তর করেছে। ২০২৩ সালে প্রপার্টি খাতে কান্ট্রি গার্ডেনের অবস্থান ছিল ১১তম।
বিশ্লেষকরা জানান, ১৯৭৮ সালে অর্থনীতিকে উন্মুক্ত করে দেয়ার পর গত কয়েক দশকে সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে চীন। ১৯৯১ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে দেশটিতে বার্ষিক ১০ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চীনের নেতা শি জিনপিংয়ের শাসনামলে অর্থনীতির সম্প্রসারণ ধীর হয়েছে। তবে ২০২১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত গড় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৭ শতাংশ রয়েছে। তবে রিয়েল এস্টেট খাতে সংকট গভীর হয়েছে। নতুন বাড়ি বিক্রি কমে গেছে। কান্ট্রি গার্ডেনের মতো বড় ডেভেলপারদের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ব্যাংক খাতে। অনেক কোম্পানি এরই মধ্যে ঋণখেলাপি হয়েছে। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ক্রমে চীন থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন। তৃতীয় প্রান্তিকে চীনে বিদেশী বিনিয়োগ ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো নেতিবাচক পর্যায়ে নেমেছে।










