ফিউচার মার্কেটে একদিনের ব্যবধানে বেড়েছে জাপানি রাবারের দাম। দেশটির মুদ্রা ইয়েনের বিনিময় হার কমে যাওয়ার পাশাপাশি পুঁজিবাজারে উত্থান পণ্যটির মূল্যবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। যদিও সাপ্তাহিক দাম টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো কমতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাজার-সংশ্লিষ্টরা। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
ওসাকা এক্সচেঞ্জে (ওএসই) গতকাল রাবারের জুলাই সরবরাহ চুক্তির দাম আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২ দশমিক ৩ ইয়েন বা দশমিক ৮৩ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি কেজির মূল্য স্থির হয়েছে ২৭৯ দশমিক ৯ ইয়েনে (১ ডলার ৮৭ সেন্ট)। তবে চলতি সপ্তাহে দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় ১ শতাংশ কমেছে।
টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জের (টিএসই) সার্বিক সূচক নিক্কেই ২২৫-এর গড় পয়েন্ট বেড়ে গতকাল ৩৭ হাজারে পৌঁছে। ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো সূচকটি এই উচ্চতায় পৌঁছে। সূচকটির এমন উত্থান জাপানের সার্বিক অর্থনীতি ও বিনিয়োগে ইতিবাচক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
টয়োটা, হোন্ডা, নিশানসহ জাপানের শীর্ষস্থানীয় গাড়ি নির্মাতা ও শিল্প খাতের অনেক কোম্পানিই নিক্কেই ২২৫ সূচকে তালিকাভুক্ত। এ কোম্পানিগুলোর ভালো পারফম্যান্সের অর্থ হলো দেশের সার্বিক অর্থনীতি জোরালো প্রবৃদ্ধির ধারায় আছে। আর এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায় রাবারের মতো শিল্পপণ্যের চাহিদা।
অন্যদিকে ইয়েনের বিনিময় হার কমে যাওয়ায় জাপানের রফতানি আরো বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে আরো সাশ্রয়ী হয়েছে রাবারের সরবরাহ চুক্তির মতো ইয়েনে লেনদেন হওয়া সম্পদ। বিনিয়োগ চাহিদা বৃদ্ধি পণ্যটির বাজারকে চাঙ্গা করে তুলেছে।
ইয়েনের বিনিময় হার গতকাল কমে ১০ সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। অন্যদিকে ডলারের বিনিময় হার টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো বেড়েছে। এমন বাস্তবতায় ব্যাংক অব জাপান কত দ্রুত সুদহার বাড়ায় এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে, সেদিকেই নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। এমনটি ঘটলে তা ইয়েনকে আরো দুর্বল করে তুলবে। ফলে রাবারের সরবরাহ চুক্তির দাম আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে শিল্পপণ্য হওয়ায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামের উত্থান-পতনের সরাসরি প্রভাব পড়ে রাবারের বাজারদরে। ইসরায়েল গতকাল হামাসের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে জ্বালানি তেলের দাম আরো এক দফা বেড়ে যায়, যা রাবারের মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
সাংহাই ফিউচারস এক্সচেঞ্জের গুদামগুলোয় গত শুক্রবারের পর থেকে প্রাকৃতিক রাবারের মজুদ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। চীনের বাজারে পণ্যটির চাহিদা বাড়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন বাজার-সংশ্লিষ্টরা।










