কভিড-১৯ মহামারীর প্রকোপ কিছুটা কমেছে। এর জের ধরে বিভিন্ন দেশের বিধিনিষেধও শিথিল হতে শুরু করেছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটি উপলক্ষে ভ্রমণ চাহিদাও বেড়ে চলেছে। ২০২০ সালের পর এবার প্রথম বৈশ্বিক উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলোর সক্ষমতা ১০ কোটি আসনের পরিসীমাকে অতিক্রম করেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এশীয় জেট ফুয়েল পরিশোধন মুনাফার ঊর্ধ্বমুখিতা অব্যাহত রয়েছে। খবর রয়টার্স।
এভিয়েশন শিল্প সংস্থার তথ্য বলছে, জ্বালানি ব্যয়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বেড়েছে টিকিটের ভাড়াও। এ সত্ত্বেও গত তিন মাসে নির্ধারিত উড়োজাহাজের আসনসংখ্যাও বেড়ে চলেছে।
এ বিষয়ে বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক স্যান্ডি কোয়া বলেন, মানুষ বিদেশ ভ্রমণে আগ্রহী হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত দুই বছরের স্থবির সময় পোষাতে ভ্রমণ চাহিদা বেড়েছে। আগামী মাসগুলোয় চাহিদা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
রেফিনিটিভের তথ্য বলছে, গত সপ্তাহে সিঙ্গাপুরের ক্র্যাক (জেট ফুয়েল পরিশোধনের মাপকাঠি) দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৫০ ডলার ৭৫ সেন্ট, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভ্রমণ চাহিদা বাড়ার কারণে ক্র্যাক আরো ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উড়োজাহাজ পরিবহন তথ্য সংস্থা ওএজি জানিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। যুদ্ধের পর থেকে ক্র্যাক তিন গুণ বেড়েছে। মার্চের শেষ নাগাদ ক্র্যাক প্রায় শতভাগ বেড়েছে। বৈশ্বিক উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থার সক্ষমতা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ আসন বেড়ে গত সপ্তাহে ৯ কোটি ৫২ লাখে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে চীনের সংযোজন ছিল ৩০ লাখ আসন।
এ বিষয়ে ফিচ সলিউশনসের জ্যেষ্ঠ জ্বালানি তেল ও গ্যাস বিশ্লেষক পিটার লি বলেন, আগামী মাসগুলোয় জেট জ্বালানির চাহিদা গঠনমূলক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ব্যবস্থাপনায় সরকার দক্ষ হয়ে উঠেছে।
ওএজির তথ্য বলছে, এ সপ্তাহে বৈশ্বিক ফ্লাইটের আসনসংখ্যা ১০ কোটি ৬ লাখে পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে তা ১০ কোটি ৮৫ লাখে উন্নীত হওয়ার পূর্বাভাস মিলেছে।
এ বিষয়ে তথ্য ও বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের জ্যেষ্ঠ জ্বালানি তেল বিশ্লেষক জেন জি বলেন, চীনের অভ্যন্তরে ও বাইরে আন্তর্জাতিক আকাশ ভ্রমণ কিছু সময় ধরে অবদমিত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে দেশে নতুন করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় কভিডশূন্য নীতিতে অটল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে চীনের। তবে চীনের বাইরে জুন-জুলাইয়ে ভ্রমণের চাহিদা তুঙ্গে থাকবে। এ সময়ের মধ্যে এশিয়ায় জেট/কিলো চাহিদা আগের মাসের তুলনায় দৈনিক দুই লাখ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।










