তবে এবার বালির পরিচিতি বাড়ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কারণে। সেখানে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের নামিদামি সব ক্ল্যাসিক স্পোর্টস গাড়ির হুবহু রেপ্লিকা। ‘তুকসেদো স্টুডিও’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান পুরনো গাড়ির যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে হাতে তৈরি এসব গাড়ি বাজারে আনছে, যা এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
২০২০ সালে করোনা মহামারীর সময় বালির স্থপতি পুজি হানদোকো ঘরে বসে অলস সময় কাটাচ্ছিলেন। শখের বশে তিনি একটি পুরনো ফক্সওয়াগন বিটল গাড়ির ইঞ্জিন ও চেসিস ব্যবহার করে নিজের প্রিয় পোরশে ৩৫৬ মডেলের একটি অ্যালুমিনিয়াম বডি তৈরি করেন। গাড়িটির অসাধারণ ফিনিশিং দেখে মুগ্ধ হন সবাই। মূলত এ শখ থেকেই জন্ম নেয় তুকসেদো স্টুডিও, যা বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার একমাত্র প্রিসিশন কার মেকার হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে এখানে ৮০ জন কর্মী কাজ করছেন।
প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, বালির স্থানীয় কারিগররা মন্দিরের কাঠের কাজ বা ঐতিহ্যবাহী ধাতব শিল্পে অত্যন্ত দক্ষ। তাদের এ সহজাত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিকের বডি তৈরি করা হচ্ছে। তবে গাড়িগুলো তৈরির প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ। প্রতিটি গাড়ি তৈরিতে প্রায় ১৫-১৮ মাস সময় লাগে। বছরে মাত্র পাঁচটি গাড়ি তৈরি করা সম্ভব হয়, কারণ গাড়ির বডি থেকে শুরু করে ড্যাশবোর্ডের ছোট ছোট সুইচ পর্যন্ত সবকিছুই এখানে হাতে তৈরি করা হয়।
এসব গাড়ির দামও বেশ চড়া। জেমস বন্ডের জনপ্রিয় অ্যাস্টন মার্টিন ডিবি৫ মডেলের একটি রেপ্লিকার দাম রাখা হয়েছে ৩ লাখ মার্কিন ডলার। আবার মার্সিডিজ-বেঞ্জ ৩০০ এসএল মডেলের গাড়ির দাম রাখা হয়েছে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। মূলত ইন্দোনেশিয়ায় পুরনো ভিন্টেজ গাড়ি আমদানিতে আইনি জটিলতা থাকায় ধনী সংগ্রাহক, সেলিব্রিটি ও রাজনীতিকদের কাছে এ হাতে তৈরি গাড়িগুলোর চাহিদা ব্যাপক।
শুধু দেশেই নয়, দুবাই, ফিলিপাইন এমনকি যুক্তরাজ্যেও এসব গাড়ি বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিজস্ব ডিজাইনের একটি স্পোর্টস কার তৈরির কাজ শুরু করেছে, যার নাম দেয়া হয়েছে ‘দ্য ফার্স্ট লেডি’। নিখুঁত কারিগরি আর আভিজাত্যের মিশেলে বালির এ শিল্প এখন বিশ্ব অটোমোবাইল বাজারে নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।










