দেশের পুঁজিবাজারে প্রথম এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সম্প্রতি বিএসইসির ৮৪৯তম কমিশন সভায় লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ১০০ কোটি টাকা এবং ফ্রন্টিয়ার অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ও ডন গ্লোবাল লিমিটেডের ৫০ কোটি টাকার ইটিএফ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গতকাল বিএসইসির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এলবি মাল্টি অ্যাসেট ইনকাম ইটিএফের উদ্যোক্তা লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। ১০০ কোটি টাকার এ ফান্ডের খসড়া ট্রাস্ট ডিড কিছু শর্ত সাপেক্ষে বিএসইসি অনুমোদন দিয়েছে। ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের অধীনে এ ফান্ডটির ট্রাস্ট ডিডটি নিবন্ধন করতে হবে। এ ফান্ডে উদ্যোক্তা ১০ শতাংশ ও সম্পদ ব্যবস্থাপক ২ দশমিক ৫০ শতাংশ বিনিয়োগ করবে। বাকি অর্থ প্রাইভেট প্লেসমেন্ট ও পাবলিক অফারের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে। ফান্ডটির ট্রাস্টি হিসেবে বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিজিআইসি) ও সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে লংকাবাংলা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড দায়িত্ব পালন করবে।

এফএএম ডিজি বেঙ্গল টাইগার ইটিএফের উদ্যোক্তা ডন গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড ও ফ্রন্টিয়ার অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। এর মধ্যে ডন গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান। এ ফান্ডটিকে বেশকিছু শর্ত সাপেক্ষে ৫০ কোটি টাকা সংগ্রহের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের অধীনে এ ফান্ডের ট্রাস্ট ডিডটি নিবন্ধন করতে হবে। এ ফান্ডটি উদ্যোক্তা ও সম্পদ ব্যবস্থাপকের পাশাপাশি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করবে। ফান্ডটির ট্রাস্টি হিসেবে এমটিবি ক্যাপিটাল লিমিটেড ও সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে ফ্রন্টিয়ার অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড দায়িত্ব পালন করবে।

এ বিষয়ে বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশেই ইটিএফ রয়েছে। আমাদের দেশের মিউচুয়াল ফান্ড খাতটি বেশ দুর্বল। একে শক্তিশালী করার জন্যই ইটিএফ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আমরা যে দুটি ইটিএফ অনুমোদন দিয়েছি তার মধ্যে একটির সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানও সংশ্লিষ্ট রয়েছে, যা দেশের মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে। এরই মধ্যে আরো একটি প্রতিষ্ঠান ইটিএফের জন্য আবেদন করেছে। ভবিষ্যতে আরো অনেকেই করবে। পাশাপাশি আমরা একাধিক প্রতিষ্ঠানকে মার্কেট মেকারের লাইসেন্স দিয়েছি। মূলত বাজারকে স্থিতিশীল করার জন্যই এসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আশা করছি নতুন বছরের শুরু থেকেই পুঁজিবাজার ইতিবাচক ধারায় ফিরে আসবে।’

পুঁজিবাজারে বৈচিত্র্য বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরেই ইটিএফসহ নতুন নতুন পণ্য চালুর চেষ্টা করছে বিএসইসি। ইটিএফ চালুর বিষয়ে বিএসইসির সঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জও (ডিএসই) কাজ করছে। ইটিএফ চালুর ক্ষেত্রে বাজার সৃষ্টিকারী বা মার্কেট মেকারের প্রয়োজন হবে। এ কারণে সম্প্রতি বিএসইসির পক্ষ থেকে একাধিক প্রতিষ্ঠানকে মার্কেট মেকারের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। এ বছরের জুনে বিএসইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দেশের পুঁজিবাজারে ইটিএফ ও মার্কেট মেকার চালুর ক্ষেত্রে কারিগরি সহায়তা দেয়ার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন ডন গ্লোবাল ম্যানেজমেন্টের কর্মকর্তারা। অভিজ্ঞতা স্থানান্তরের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি ইটিএফে বিনিয়োগের কথাও জানিয়েছিল সে সময়।

এ বছরের জুনে ডিএসইর পক্ষ থেকে ইটিএফ চালুর বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, লংকাবাংলা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ও গ্রীণ ডেল্টা ড্রাগন অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড ইটিএফে বিনিয়োগের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে লংকাবাংলা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি এবং ফ্রন্টিয়ার অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ও ডন গ্লোবাল লিমিটেডের ইটিএফ কমিশন অনুমোদন করেছে। গ্রীণ ডেল্টা ও শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ইটিএফের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ইটিএফ বিধিমালা ২০১৬-এর বিধি ৬(ধ) অনুসারে, ইটিএফ গঠনের সময় এর ন্যূনতম তহবিলের আকার কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা হতে হবে। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তার ১০ শতাংশ, সম্পদ ব্যবস্থাপকের ২ শতাংশ ও বাকি ৮৮ শতাংশ অর্থ প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে। অর্থাৎ উদ্যোক্তা, সম্পদ ব্যবস্থাপক ও প্রাইভেট প্লেসমেন্ট মিলিয়ে ইটিএফের আকার ৫০ কোটি টাকা হতে হবে। অন্যদিকে পাবলিক অফারের মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে ইটিএফের আকার ৫০ কোটি টাকার বেশি হতে হবে।