গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) অর্থনীতি ২০২৪ সালে ৩ দশমিক ৬ এবং ২০২৫ সালে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের নতুন এক প্রতিবেদনে পূর্বাভাস করা হয়েছে ২০২৩ সালে জিসিসি অঞ্চলের অর্থনীতি ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে।

চলতি বছরের দুর্বল অর্থনীতি পূর্বাভাস করা হয়েছে মূলত জ্বালানি তেল খাতের নিম্নমুখিতার কারণে। বিশ্বব্যাংক আশঙ্কা করছে, ২০২৩ সালে জ্বালানি তেলের ব্যবসা ৩ দশমিক ৯ শতাংশ সংকুচিত দেখা যাবে। এটি ওপেকপ্লাসের সাম্প্রতিক জ্বালানি তেল উৎপাদন হ্রাস এবং বিশ্বব্যাপী মন্দার প্রতিফলন। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাতগুলো এ পতন ঠেকাতে কাজ করতে পারে। এ খাতগুলোয় ২০২৩ সালে ৩ দশমিক ৯ এবং মাঝারি মেয়াদে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ সম্প্রসারণ হওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। টেকসই বেসরকারি ব্যয়, কৌশলগত বিনিয়োগ এবং সহায়ক আর্থিক নীতিগুলো জ্বালানি তেলবহির্ভূত প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

বিশ্বব্যাংকের পরিচালক সাফা এল তায়েব এল-কোগালি জানান, গতি বজায় রাখতে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোকে অবশ্যই বিচক্ষণ ব্যবস্থাপনা অব্যাহত রাখতে হবে। সংস্কারে প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাতে রফতানি বাড়াতে হবে।

তিনি আরো জানান, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতজনিত কিছু ঝুঁকি এখনো আছে। ফলে জ্বালানি তেলের বাজারকে এটি অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে নারীদের অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। জিসিসি অঞ্চলে বহুমুখী প্রকল্প এখন লাভ করতে শুরু করেছে। এক্ষেত্রে আরো সংস্কার প্রয়োজন।

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ খালেদ আল-হামুদ জানান, ২০২৩ সালের জ্বালানি তেলের বাজারে মন্দা সত্ত্বেও এ অঞ্চল অগ্রগতি দেখিয়েছে।

এর অন্যতম উদাহরণ, সৌদি আরবের বেসরকারি খাতের কর্মীবাহিনী ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৩ সালের গোড়ার দিকে কর্মী ২৬ লাখে পৌঁছেছে। এছাড়া সৌদি নারীদের শ্রমে অংশগ্রহণ ২০১৭ সালে ১৭ দশমিক ৪ থেকে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ২০২৩ সালের প্রথম প্রান্তিকে ৩৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

২০২৩ সালে সৌদি আরবের অর্থনীতি জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাতে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে পূর্বাভাস করা হয়েছে। এ প্রবৃদ্ধি চলতি বছর জ্বালানি তেল খাতে প্রত্যাশিত ৮ দশমিক ৪ শতাংশ সংকোচনে সহায়তা করবে। জ্বালানি শিল্প উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হলে জ্বালানিবহির্ভূত খাতের সম্প্রসারণ ঘটবে এভাবে অর্থনৈতিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠবে।

সৌদি আরবের মোট জিডিপি ২০২৩ সালে দশমিক ৫ শতাংশ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। যার কারণ শক্তিশালী জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাতের পারফরম্যান্স। ২০২৪ সালে জ্বালানি তেলের কার্যক্রম স্থিতিশীল ও তেলবহির্ভূত খাতের প্রবৃদ্ধি দৃঢ় থাকলে সৌদির সামগ্রিক অর্থনীতি ৪ দশমিক ১ শতাংশ পুনরুদ্ধার হতে পারে।

বাহরাইনের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ২০২৩ সালে ২ দশমিক ৮ শতাংশে উন্নীত হবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। সুতরাং ২০২২ সালের তুলনায় চলতি বছর সম্প্রসারণ কিছুটা ধীর হবে। জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাতগুলো এ প্রবৃদ্ধিকে অব্যাহত রাখবে। মধ্যমেয়াদে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ অতিক্রম করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাই বাহরাইনের জ্বালানি তেলবহির্ভূত শিল্প যেমন আর্থিক পরিষেবা, পর্যটন, পরিবহন ইত্যাদি আগামীতে শক্তিশালী হবে। এদিকে বাহরাইনের জ্বালানি তেল খাতে ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। সুতরাং জ্বালানি তেল শিল্প বাহরাইনের অর্থনীতিতে কিছুটা অবদান রাখবে।

কম জ্বালানি তেল উৎপাদনের কারণে কুয়েতের জিডিপি ২০২৩ সালে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমবে বলে পূর্বাভাস করা হয়েছে। ২০২৪ সালে পুনরুদ্ধারের আগে কুয়েতের জ্বালানি তেল খাত ৩ দশমিক ৮ শতাংশ সংকুচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ভোক্তা ব্যয় ও সহায়ক আর্থিক ব্যবস্থার সহায়তায় জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাতগুলো ৫ দশমিক ২ শতাংশ বাড়তে পারে।

জ্বালানি তেলের উৎপাদন কমানোর ফলে ওমানের অর্থনীতি ২০২৩ সালে ১ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির গতি ধীর হয়ে আসতে পারে। তেলবহির্ভূত খাতগুলোয় ২ শতাংশেরও বেশি সম্প্রসারণ দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাতারের ২০২৩ সালের জিডিপি কমে ২ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসবে। নির্মাণ খাতে দুর্বলতা ও কঠোর মুদ্রা নীতি থাকা সত্ত্বেও কাতারের তেলবহির্ভূত অর্থনীতি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখতে পারে।

২০২৩ সালে ১৪টি বড় ক্রীড়া ইভেন্টের মাধ্যমে বৈশ্বিক ক্রীড়া কেন্দ্র হিসেবে কাতারের অবস্থান আরো জোরদার হচ্ছে। দেশটির হাইড্রোকার্বন খাত ২০২৩ সালে ১ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে পূর্বাভাস করা হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতি সম্ভবত ২০২৩ সালে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসবে। জ্বালানি তেলের জিডিপি শূন্য দশমিক ৭ ও তেলবহির্ভূত উৎপাদন ৪ দশমিক ৫ শতাংশ সম্প্রসারণ হতে পারে।